odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Wednesday, 8th April 2026, ৮th April ২০২৬

ডেডলাইনের ৯০ মিনিট আগে যুদ্ধবিরতি, ইরানের জেদ-ইসরায়েলের আপত্তি

odhikarpatra | প্রকাশিত: ৮ April ২০২৬ ১৯:৪৭

odhikarpatra
প্রকাশিত: ৮ April ২০২৬ ১৯:৪৭

অধিকারপত্র ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুই সপ্তাহের একটি শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দেওয়া আলটিমেটাম শেষ হতে প্রায় দেড় ঘণ্টা বাকি থাকতেই পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই সমঝোতা হয়। এর আওতায় তেলবাহী জাহাজ চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে রাজি হয়েছে ইরান।

এদিকে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরপরই ইরানের সামরিক বাহিনী গুলি বন্ধের নির্দেশ পেলেও, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি শান্ত করতে আগামী ১০ এপ্রিল পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর কথা রয়েছে।

শেষ মুহূর্তের সমঝোতা

ট্রাম্প ঘোষিত চূড়ান্ত সময়সীমার কাছাকাছি পৌঁছে শেষ মুহূর্তে যুদ্ধবিরতির এই ঘোষণা আসে। এর আগে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালি খোলা না হলে ‘গোটা ইরানি সভ্যতা ধ্বংস করে দেওয়া হবে’। এই আলটিমেটামের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের বেশ কয়েকটি স্থাপনায় শেষ হামলা চালায়।

যুদ্ধবিরতির শর্ত ও দাবি

এই চুক্তি স্বাক্ষরের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই একে নিজেদের বিজয় হিসেবে দাবি করছে। তবে উভয় পক্ষের অবস্থানের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি: ট্রাম্প এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘পূর্ণাঙ্গ ও সম্পূর্ণ বিজয়’ বলে দাবি করেছেন। চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র দুই সপ্তাহ ইরানে হামলা বন্ধ রাখবে, আর বিনিময়ে ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে।

ইরানের দাবি: ইরান পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ যুদ্ধবিরতিকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়’ ও ‘ইরানের বিজয়’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তারা ১০ দফা প্রস্তাব পেশ করেছে, যার মধ্যে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকারের কথা বলা হয়েছে। ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সেনা প্রত্যাহার এবং ইরানের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করার দাবিও রয়েছে।

ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাত অব্যাহত

যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির চুক্তি করলেও, ইসরায়েল স্পষ্ট করে দিয়েছে যে এই চুক্তি লেবাননে প্রযোজ্য নয়। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি থাকলেও লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘাতে ইতিমধ্যে ইসরায়েলের চার সেনা নিহত হয়েছে।

বিশ্ববাজারে প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া

যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ১৫ থেকে ১৭ শতাংশ কমে গেছে। তবে রাশিয়া বলছে, এই যুদ্ধবিরতি আসলে ওয়াশিংটনের আগ্রাসী নীতির ‘ভয়াবহ পরাজয়’। অন্যদিকে পোপ ও জাতিসংঘ ট্রাম্পের ‘গোটা সভ্যতা ধ্বংস’ করার হুমকির তীব্র সমালোচনা করেছে।

সবশেষে, এই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি শুধুই একটি ‘সাময়িক স্বস্তি’ কি না, তা নির্ভর করবে আগামী ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে বসতে যাওয়া আলোচনার ফলাফলের ওপর। ইরান ইতিমধ্যে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে এই যুদ্ধবিরতি মানে যুদ্ধের সমাপ্তি নয়।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: