odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Wednesday, 15th April 2026, ১৫th April ২০২৬
উদ্বোধনের আগেই দুবার উদ্বোধন, জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে খরচের পাহাড়। কত টাকা আত্মসাৎ হলো খরচের স্বচ্ছতা ও অনিয়মের প্রশ্ন

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর বিতর্ক: মোস্তফা সরয়ার ফারুকীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগের তীর

Special Correspondent | প্রকাশিত: ১৪ April ২০২৬ ২৩:১০

Special Correspondent
প্রকাশিত: ১৪ April ২০২৬ ২৩:১০

নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের স্মৃতি সংরক্ষণে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনে নির্মিত হচ্ছে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর। প্রায় ১৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্প ঘিরে উঠেছে দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ। কাজ শেষ হওয়ার আগেই নথিপত্রে দুবার উদ্বোধন দেখিয়ে কয়েক কোটি টাকা খরচ করা হলেও বাস্তবে জাদুঘরটি কবে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হবে তা জানেন না খোদ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাই।

নামমাত্র উদ্বোধনে কোটি টাকার ব্যয়

চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে দুবার প্রধান উপদেষ্টার উদ্বোধন অনুষ্ঠান দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। জানুয়ারিতে খাবার, শ্রম ও স্টেশনারি খাতে ব্যয় দেখানো হয় ৮০ হাজার ৫৪৫ টাকা। ঠিক এক মাস পর ফেব্রুয়ারিতে আবারও উদ্বোধন উপলক্ষে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও আসবাবপত্র স্থানান্তরের নামে আরও ১ লাখ ৩৩ হাজার টাকা খরচ করা হয়। এভাবে উদ্বোধনের নামেই কয়েক কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠেছে।

খরচের অস্বাভাবিক হিসাব

জাদুঘরটির নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের বিভিন্ন ভাউচার পর্যালোচনা করে দেখা যায়:

আপ্যায়ন খরচ: প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ লাখ টাকা খাবার ও নাস্তার বিল দেখানো হয়েছে। বিশেষ করে সংস্কৃতি কর্মীদের আপ্যায়নেই দুই মাসে ব্যয় হয়েছে ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা।

সীমানা প্রাচীর: গণভবনের চারদিকে টিনের বাউন্ডারি নির্মাণেই খরচ দেখানো হয়েছে প্রায় ১.৫ কোটি টাকা।

আসবাবপত্র ও সরঞ্জাম: আসবাবপত্র ও অফিস সরঞ্জামের নামে ৩ কোটি ৩১ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হলেও অভিযোগ রয়েছে যে, গণপূর্ত অধিদপ্তর (পিডব্লিউডি) পূর্বের কাজকেই নতুন করে দেখিয়ে এই অর্থ উত্তোলন করেছে।

ডকুমেন্টারি ও সজ্জা: ১৯টি ডকুমেন্টারি নির্মাণে ৫ কোটি ২৩ লাখ টাকা এবং গ্যালারি সজ্জা ও প্রতীকী ‘আয়নাঘর’ নির্মাণসহ আনুষঙ্গিক কাজে প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে।

অনিয়মের কেন্দ্রে যারা

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিল জাতীয় জাদুঘর কর্তৃপক্ষ। নিজস্ব তহবিল থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে অর্থ উত্তোলনের এই প্রক্রিয়ায় সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ওয়াহাব এবং পর্ষদ চেয়ারম্যান মেরিনা তাবাসসুমের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে কোনো টেন্ডার ছাড়াই মৌখিক নির্দেশে কাজ শুরু করা এবং পরে তা বৈধ করার চেষ্টার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

আইনি কাঠামো ও বর্তমান অবস্থা

সম্প্রতি জাতীয় সংসদে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল সংশোধিত আকারে পাস হয়েছে। নতুন আইন অনুযায়ী, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী এই জাদুঘরের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ১১১ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হলেও সমালোচনার মুখে তা সংশোধন করে ৯৭ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়। তবে সব মিলিয়ে বর্তমানে মোট ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ১৩০ কোটি টাকা দাঁড়িয়েছে।

কর্মকর্তাদের ভাষ্য

অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, কবে নাগাদ উদ্বোধন হবে এই বিষয়ে আমি কথা বলতে রাজি না। অন্যদিকে জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ওয়াহাব জানান, আয়নাঘরসহ সব কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং ৯৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা সিভিল ও ই/এম কাজে ব্যয় হয়েছে। প্রশাসনিক অনুমোদন সাপেক্ষে শিগগিরই এটি উন্মুক্ত করা হবে, তবে উদ্বোধনের সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। উদ্বোধনের আগেই এই বিপুল পরিমাণ ব্যয় এবং নথিপত্রে অস্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে এবং সচেতন মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।

 --মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: