প্রকাশিত: ০৫ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা: বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, মানবিক কার্যক্রম এবং আঞ্চলিক কূটনীতিতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের আগ্রহ প্রকাশ করেছে তুরস্ক। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট সমাধান ও বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের ভূমিকার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে দেশটি।
শুক্রবার (৫ জুন) ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Hakan Fidan।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও তুরস্কের দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বকে আরও বিস্তৃত ও গভীর করতে উভয় দেশ কাজ করছে। এই সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী ও দূরদর্শী পর্যায়ে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় Khalilur Rahman-কে অভিনন্দন জানিয়ে ফিদান বলেন, এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতি গভীর শ্রদ্ধার প্রতিফলন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ড. রহমান তাঁর অভিজ্ঞতার আলোকে দায়িত্ব সফলভাবে পালন করবেন।
ফিদান জানান, সাম্প্রতিক সময়ে ড. রহমানের তুরস্ক সফর দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধির ইঙ্গিত বহন করে। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে প্রায় ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ করছে দুই দেশ। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্পকে সম্ভাবনাময় সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সফরের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ও তুরস্ক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে সহযোগিতার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে।
বাংলাদেশকে ‘গ্লোবাল সাউথের শক্তিশালী কণ্ঠস্বর’ উল্লেখ করে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১১ লাখের বেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তুরস্ক আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রোহিঙ্গা ইস্যু সক্রিয় রাখতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে এবং তাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবর্তনের পক্ষে থাকবে।
তিনি জানান, সফরের অংশ হিসেবে তিনি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করবেন এবং তুরস্কের বিভিন্ন মানবিক সংস্থার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন।
আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে ফিদান বলেন, বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা সংঘাত ও অস্থিতিশীলতা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। তিনি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার আশা প্রকাশ করেন।
হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি।
গাজা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইসরাইলের সামরিক আগ্রাসন বন্ধ এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর করাই এখন বৈশ্বিক অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
সংবাদ সম্মেলনে ফিদান আরও বলেন, নতুন নতুন উদ্যোগ ও প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও তুরস্কের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে এবং উভয় দেশ দক্ষিণ এশিয়াসহ বৃহত্তর অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি বৃদ্ধিতে একযোগে কাজ করবে।
কূটনৈতিক সম্পর্ক। প্রতিরক্ষা সহযোগিতা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য রোহিঙ্গা সংকট খলিলুর রহমান হাকান ফিদান বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক তুরস্ক

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: