ঢাকা, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ / নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের শিক্ষা অঙ্গনে এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের পতন ঘটল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (আইইআর)-এর সাবেক পরিচালক, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সালমা আখতার আর নেই। ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের পহেলা বৈশাখ ছিল তার জীবনের শেষ উৎসব। পরদিন, ২রা বৈশাখ (১৫ এপ্রিল ২০২৬), যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার গেইনসভিলে (স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ২০ মিনিটে) তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
জানা গেছে, সেপটিক শক ও একাধিক অঙ্গ বিকল হয়ে পড়ার কারণে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার এই অকাল প্রয়াণে দেশের শিক্ষা মহলে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
অধ্যাপক সালমা আখতার ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআর-এর একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক, গবেষক ও প্রশাসক। ১৯৭৩ সালের জুলাই থেকে ২০১৪ সালের জুন পর্যন্ত টানা ৪১ বছর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। দীর্ঘ এই সময়ে তিনি শিক্ষা নীতি, ব্যবস্থাপনা ও নেতৃত্ব বিষয়ে অসামান্য অবদান রাখেন । ২০০৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি আইইআর-এর ২০তম পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তার গবেষণার ক্ষেত্র ছিল উচ্চশিক্ষায় শিক্ষা নীতি, প্রশাসন, শিক্ষক শিক্ষা কারিকুলাম উন্নয়ন এবং জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষা সংস্কার। তিনি শুধু একজন শিক্ষকই ছিলেন না, ছিলেন একজন চিন্তক, নীতি নির্ধারক ও পথপ্রদর্শক। তার হাত ধরেই শিক্ষক শিক্ষার মানোন্নয়নে এসেছে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি।
তার শিক্ষা জীবনও ছিল সমানভাবে উজ্জ্বল। ভারতের জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা নীতিতে পিএইচডি স্কলারশীপে অধ্যয়ন করেন (১৯৯৬-১৯৯৯), লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব এডুকেশন থেকে শিক্ষা নীতি ও ব্যবস্থাপনায় স্নাতকোত্তর (১৯৭৯-১৯৮০), এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি ও শিক্ষা প্রশাসনে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন।
টাঙ্গাইলের এক সম্মানিত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া সালমা আখতার ছাত্রজীবন থেকেই ছিলেন সচেতন ও সক্রিয়। ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ, কাগমারী সম্মেলনে উপস্থিতি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল ছাত্র সংসদে দায়িত্ব পালন—সবকিছুই তার রাজনৈতিক ও সামাজিক সচেতনতার সাক্ষ্য বহন করে।
অধ্যাপক আখতার অসংখ্য বই, গবেষণা প্রবন্ধ ও প্রতিবেদন রচনা করেছেন। ২০২৩ সালে প্রকাশিত তার একটি গুরুত্বপূর্ণ লেখায় তিনি প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের মান উন্নয়নের ওপর জোর দেন। তিনি মনে করতেন, শিক্ষার গুণগত উন্নয়ন ছাড়া টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (SDG-4) অর্জন সম্ভব নয়। শিক্ষক প্রশিক্ষণের সময়সীমা কমানোর প্রস্তাবের বিরোধিতা করে তিনি দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি ছিলেন এক অনুপ্রেরণার নাম। কঠোর শৃঙ্খলা, গভীর মানবিকতা এবং শিক্ষার প্রতি অগাধ ভালোবাসা তাকে করেছে অনন্য। তাঁর মৃত্যুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার, শিক্ষা গবেষক সমাজ এবং অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তার শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
পরিবার, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে সবাই তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন। মহান আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই শোক সইবার শক্তি দান করেন—এটাই সবার প্রার্থনা। আমিন।
#SalmaAkhter #EducationLeader #DU #IER #BangladeshEducation #Tribute #AcademicIcon #ShokShongbad #EducationPolicy #InnaLillahi

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: