odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Monday, 20th April 2026, ২০th April ২০২৬
ছোট, দ্রুতগামী ও গোপন হামলা সক্ষম নৌযানেই টিকে আছে নিয়ন্ত্রণ; অসম যুদ্ধকৌশলে চাপে যুক্তরাষ্ট্র

বড় নৌবহর ধ্বংস হলেও হরমুজে ইরানের দাপট, ‘মসকিউটো ফ্লিট’ এখন প্রধান শক্তি

odhikarpatra | প্রকাশিত: ২০ April ২০২৬ ০৬:৫৯

odhikarpatra
প্রকাশিত: ২০ April ২০২৬ ০৬:৫৯

অধিকারপত্র ডটকম আন্তর্জাতিক ডেক্স,

মূল প্রতিবেদন:
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বড় যুদ্ধজাহাজের বড় অংশ ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পরও পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী-তে নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে ইরান। বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে দেশটির বিশেষ নৌ কৌশল এবং ছোট আকারের দ্রুতগতির আক্রমণকারী নৌবহর, যা ‘মসকিউটো ফ্লিট’ নামে পরিচিত।

মার্কিন সামরিক সূত্রগুলো দাবি করছে, সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস হয়েছে। এমনকি তাদের প্রধান নৌবহরের বড় অংশ অকার্যকর হয়ে পড়েছে। কিন্তু বাস্তবে হরমুজ প্রণালী এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে তেহরান, যা নতুন করে প্রশ্ন তুলছে—কীভাবে সম্ভব হচ্ছে এই নিয়ন্ত্রণ?

বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি-এর নৌ ইউনিট এই পরিস্থিতির মূল চালিকাশক্তি। তাদের ‘মসকিউটো ফ্লিট’ মূলত ছোট, দ্রুতগতির ও অত্যন্ত গতিশীল নৌযানের সমন্বয়ে গঠিত, যা প্রচলিত নৌবাহিনীর তুলনায় ভিন্ন কৌশলে পরিচালিত হয়।

এই নৌযানগুলো আকারে ছোট হলেও ঘণ্টায় ১০০ মাইলের বেশি গতিতে চলতে পারে এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যে হামলা চালিয়ে দ্রুত সরে যেতে সক্ষম। পাথুরে উপকূলের গুহা বা গোপন ঘাঁটিতে রাখা এসব বোট সহজে শনাক্ত করা যায় না। ফলে স্যাটেলাইট নজরদারিও অনেক ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ফ্লিট গেরিলা কৌশলে পরিচালিত হয়, যা ‘অ্যাসিমেট্রিক্যাল ওয়ারফেয়ার’ বা অসম যুদ্ধনীতির অংশ। বড় যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষে না গিয়ে ছোট ছোট আক্রমণের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে দুর্বল করা এদের মূল লক্ষ্য।

এছাড়া এসব নৌযান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট, ড্রোন এবং সামুদ্রিক মাইন ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে ড্রোন হামলা শনাক্ত করা কঠিন হওয়ায় বাণিজ্যিক জাহাজগুলো বড় ঝুঁকিতে রয়েছে। ইতোমধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলে একাধিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের এই কৌশল যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ উন্নত অস্ত্রসজ্জিত যুদ্ধজাহাজ দিয়ে ছোট ও ছদ্মবেশী নৌযানের ঝাঁক পুরোপুরি নির্মূল করা কঠিন। ফলে হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথে সামরিক আধিপত্য স্থাপন করা সহজ হচ্ছে না।

বর্তমানে ধারণা করা হচ্ছে, এসব দ্রুতগামী নৌযানের সংখ্যা কয়েকশ থেকে কয়েক হাজার পর্যন্ত হতে পারে। পাশাপাশি উপসাগরজুড়ে বিভিন্ন দ্বীপ ও ঘাঁটিতে ছড়িয়ে থাকা এই বাহিনী যেকোনো সময় আকস্মিক হামলা চালাতে সক্ষম।

সব মিলিয়ে, বড় নৌবহরের ক্ষতি সত্ত্বেও ‘মসকিউটো ফ্লিট’ ও অসম যুদ্ধকৌশলের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের প্রভাব ধরে রেখেছে ইরান, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলছে।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: