odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Monday, 27th April 2026, ২৭th April ২০২৬
ভিন্ন কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি ও আস্থার ঘাটতি জোট গঠনে বড় বাধা

তুরস্কের প্রস্তাবিত ৪ দেশীয় সামরিক জোট নিয়ে সতর্ক অবস্থানে সৌদি-মিসর

odhikarpatra | প্রকাশিত: ২৭ April ২০২৬ ০০:৩৯

odhikarpatra
প্রকাশিত: ২৭ April ২০২৬ ০০:৩৯

অধিকার পত্র ডটকম 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যসহ বৃহত্তর অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে তুরস্ক, সৌদি আরব, মিসর ও পাকিস্তানকে নিয়ে একটি চারদেশীয় নিরাপত্তা জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে আঙ্কারা। তবে প্রস্তাবিত এই সামরিক জোট নিয়ে সৌদি আরব ও মিসর সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

তুরস্ক দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিমা বিশ্বের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তির পর তুরস্ক এই উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার প্রচেষ্টা জোরদার করে। ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর কূটনৈতিক তৎপরতাও বাড়ায় আঙ্কারা।

গত ১৭ থেকে ১৯ এপ্রিল আন্তালিয়া কূটনৈতিক ফোরামের সাইডলাইনে চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠক করেন। এর আগে ইসলামাবাদ ও রিয়াদেও একই ধরনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই জোট বাস্তবায়িত হলে পূর্ব ভূমধ্যসাগর থেকে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয় তৈরি হতে পারে।

তবে জোট গঠনের পথে একাধিক জটিলতা রয়েছে। ইরান ইস্যুতে দেশগুলোর অবস্থান ভিন্ন। সৌদি আরব ইরানকে সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখলেও তুরস্ক ও পাকিস্তান তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে। ফলে একটি অভিন্ন কৌশল নির্ধারণ কঠিন হয়ে পড়ছে।

ইসরায়েল ইস্যুতেও মতপার্থক্য স্পষ্ট। তুরস্ক ও পাকিস্তান প্রকাশ্যে ইসরায়েলের সমালোচনা করলেও আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষায় সৌদি আরব ও মিসর তুলনামূলক সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। এতে জোটের অভ্যন্তরে নীতিগত ঐক্য প্রতিষ্ঠা আরও জটিল হয়ে উঠছে।

এছাড়া তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য হওয়ায় জোটটির সঙ্গে পশ্চিমা সামরিক জোটের সম্পর্ক কী হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ন্যাটোর বাইরে কোনো নতুন সামরিক ব্লকে সক্রিয় অংশগ্রহণ গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি করতে পারে।

ঐতিহাসিকভাবে তুরস্কের সঙ্গে মিসর ও সৌদি আরবের সম্পর্কও দীর্ঘদিন শীতল ছিল। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা চলছে, তবু পারস্পরিক আস্থার ঘাটতি পুরোপুরি কাটেনি।

সামরিক সক্ষমতার দিক থেকেও চার দেশের মধ্যে বৈষম্য রয়েছে। তুরস্ক ও পাকিস্তানের তুলনায় সৌদি আরব ও মিসরের সাম্প্রতিক যুদ্ধ অভিজ্ঞতা সীমিত। ফলে সম্ভাব্য কোনো সংঘাতে দায়িত্ব বণ্টন নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠতে না পারলে তুরস্কের প্রস্তাবিত চারদেশীয় সামরিক জোট বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: