odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Monday, 27th April 2026, ২৭th April ২০২৬
প্রথমবারের মতো বিদেশে মোতায়েন, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতে ব্যবহারের দাবি

ইরান যুদ্ধ চলাকালে আমিরাতে গোপনে আয়রন ডোম পাঠায় ইসরাইল

odhikarpatra | প্রকাশিত: ২৭ April ২০২৬ ০০:৩৯

odhikarpatra
প্রকাশিত: ২৭ April ২০২৬ ০০:৩৯

অধিকার পত্র ডটকম , আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের শুরুর দিকেই সংযুক্ত আরব আমিরাতকে রক্ষায় গোপনে একটি ‘আয়রন ডোম’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠিয়েছিল ইসরাইল। সেই সঙ্গে এটি পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সেনাও মোতায়েন করা হয়। সংঘাত শুরুর প্রায় দুই মাস পর রোববার (২৬ এপ্রিল) এ তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বাইরে প্রথমবারের মতো সংযুক্ত আরব আমিরাতে এই আয়রন ডোম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়। ইসরাইলের এই ব্যবস্থা আমিরাতের দিকে ছোড়া ইরানের কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

যুদ্ধ চলাকালে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশের তুলনায় আমিরাতকে লক্ষ্য করে সবচেয়ে বেশি হামলা চালায় ইরান। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫৫০টি ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ মিসাইল এবং ২ হাজার ২০০-এর বেশি ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়। এর বেশিরভাগই আকাশেই ধ্বংস করা সম্ভব হলেও কিছু হামলা সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় আঘাত হানে।

এমন পরিস্থিতিতে আমিরাত মিত্র দেশগুলোর কাছে সহায়তা চায়। ইসরাইলি কর্মকর্তাদের বরাতে জানা যায়, আমিরাতের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপের পর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একটি আয়রন ডোম ব্যাটারি এবং সেটি পরিচালনার জন্য সেনা পাঠানোর নির্দেশ দেন।

একজন জ্যেষ্ঠ ইসরাইলি কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো অন্য কোনো দেশে আয়রন ডোম মোতায়েন করা হয়। একই সঙ্গে ইসরাইলি বিমান বাহিনী দক্ষিণ ইরানে মোতায়েন স্বল্প পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্য করে একাধিক বিমান হামলাও চালায়, যাতে উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলার ঝুঁকি কমানো যায়।

২০২০ সালে ইসরাইল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির পর দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমেই ঘনিষ্ঠ হয়েছে। যদিও বিভিন্ন ইস্যুতে মাঝে মাঝে মতপার্থক্য দেখা গেছে, তবুও বর্তমান প্রেক্ষাপটে দুই দেশের সামরিক ও কৌশলগত সহযোগিতা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি শক্তিশালী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসরাইলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তিনটি স্তর রয়েছে—ডেভিডস স্লিং (মাঝারি পাল্লা), অ্যারো সিস্টেম (দূরপাল্লা) এবং আয়রন ডোম (স্বল্প পাল্লা)। এর মধ্যে আয়রন ডোমকে ইসরাইলের ‘জীবনরক্ষাকারী ঢাল’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

তবে সাম্প্রতিক সংঘাতে এই ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাও সামনে এসেছে। ইরানের ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে আয়রন ডোম সব হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়নি, ফলে এর কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

 

ইরান যুদ্ধ চলাকালে আমিরাতে গোপনে আয়রন ডোম পাঠায় ইসরাইল

#ইসরাইল #ইরান #আমিরাত #আয়রন_ডোম #মধ্যপ্রাচ্য #সামরিক_সহযোগিতা

 



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: