odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Tuesday, 21st July 2026, ২১st July ২০২৬
চাঁদ দেখার প্রচলিত শরয়ি পদ্ধতি অনুসরণের আহ্বান আলেমদের

একই দিনে রোজা-ঈদ পালনের দাবি নিয়ে জাতীয় সেমিনারে ঘোষণাপত্র

odhikarpatra | প্রকাশিত: ১০ May ২০২৬ ১৮:২৩

odhikarpatra
প্রকাশিত: ১০ May ২০২৬ ১৮:২৩

অধিকারপত্র ডটকম 

নিজস্ব  প্রতিনিধি :

ঢাকা: বিশ্বব্যাপী একই দিনে রোজা ও ঈদ পালন সংক্রান্ত বিতর্কের প্রেক্ষাপটে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক জাতীয় সেমিনারে শরিয়তসম্মত চাঁদ দেখার প্রচলিত পদ্ধতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন দেশের আলেম ও ইসলামী চিন্তাবিদরা।

রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ মিলনায়তনে ‘বিশ্বব্যাপী একই দিনে রোজা-ঈদ পালনের দাবির ভ্রান্তি নিরসন ও শরয়ি বিশ্লেষণ’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে দাওয়াতুস সুন্নাহ বাংলাদেশ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাওলানা মাহমুদুল হাসান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা মুফতি আব্দুল মালেক। তিনি এ বিষয়ে একটি লিখিত প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

সেমিনার শেষে প্রকাশিত ঘোষণাপত্রে বলা হয়, ইসলামী শরিয়তে চান্দ্রমাস শুরুর মূল ভিত্তি হলো নতুন চাঁদ দেখা অথবা মাস ৩০ দিন পূর্ণ করা। জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব বা আগাম প্রস্তুতকৃত হিজরি ক্যালেন্ডারকে একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করা শরিয়তসম্মত নয় বলেও মত দেন বক্তারা।

ঘোষণাপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, ঈদ কেবল আনন্দ-উৎসব নয়; এটি ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। তাই একে অন্যান্য জাতির উৎসবের আদলে পালনের চিন্তা অযৌক্তিক।

আলেমরা বলেন, সারা বিশ্বে একই দিনে রোজা ও ঈদ পালন বাধ্যতামূলক—এমন দাবির পক্ষে সুস্পষ্ট শরয়ি দলিল নেই। একই সঙ্গে মক্কার চাঁদ দেখাকে পুরো বিশ্বের জন্য বাধ্যতামূলক ভিত্তি হিসেবে গ্রহণের ধারণাও ইসলামী ঐতিহ্য ও উম্মাহর দীর্ঘদিনের আমলগত ধারার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে উল্লেখ করা হয়।

বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রচলিত চাঁদ দেখার পদ্ধতি দীর্ঘদিন ধরে অনুসৃত হয়ে আসছে এবং দেশের অধিকাংশ আলেম এ বিষয়ে একমত। তাই বিদ্যমান পদ্ধতি পরিবর্তনের কোনো শরয়ি প্রয়োজনীয়তা নেই।

ঘোষণাপত্রে জাতীয় হেলাল (চাঁদ দেখা) কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়। এতে বলা হয়, সরকার কর্তৃক দায়িত্বপ্রাপ্ত এ কমিটির সিদ্ধান্ত মেনে চলা মুসলিম নাগরিকদের দায়িত্বের অংশ।

সেমিনারে অংশ নেওয়া বক্তারা সতর্ক করে বলেন, প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে নতুন কোনো ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে ধর্মীয় বিভ্রান্তি ও সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: