odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Saturday, 5th September 2026, ৫th September ২০২৬
এটা কি পূর্ববর্তী সরকারের গাফলতি নাকি প্রাকৃতিক দূর্যোগ?

বাংলাদেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব: সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে শিশুরা, বাড়ছে মৃত্যু ও হাসপাতালে রোগীর চাপ

odhikarpatra | প্রকাশিত: ১৩ May ২০২৬ ০০:০৩

odhikarpatra
প্রকাশিত: ১৩ May ২০২৬ ০০:০৩

অধিকারপত্র ডটকম নিজস্ব প্রতিবেদক 

বাংলাদেশে আবারও ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়েছে হাম। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে দেশজুড়ে হাজার হাজার শিশু ও বড়রা হামে আক্রান্ত হয়েছেন। হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগীর চাপ, আর প্রতিদিনই নতুন আক্রান্ত ও মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায়ও হামে আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে একাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বিভিন্ন সময় প্রকাশিত সরকারি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়েছে। পরে মে মাসেও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতির মূল কারণ হলো টিকাদানে ঘাটতি, করোনা-পরবর্তী সময়ে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির দুর্বলতা, অপুষ্টি এবং জনসচেতনতার অভাব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও বাংলাদেশে হামের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

গবেষণা ও স্বাস্থ্য তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুরা। আক্রান্ত শিশুদের বড় অংশই টিকা না নেওয়া বা আংশিক টিকা নেওয়া ছিল। বিশেষ করে ৯ মাসের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ ও জটিলতা বেশি দেখা যাচ্ছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাম সাধারণ ভাইরাসজনিত রোগ হলেও দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা থাকলে এটি নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট, চোখের সংক্রমণ এবং মৃত্যুর কারণ হতে পারে। গর্ভবতী নারী, অপুষ্টিতে ভোগা শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের জন্য ঝুঁকি আরও বেশি।

দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল, বিশেষ করে শিশু হাসপাতালগুলোতে হামে আক্রান্ত রোগীর চাপ কয়েকগুণ বেড়েছে। যমুনা টিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে মাত্র তিন মাসে শত শত শিশু চিকিৎসা নিয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা হামের ঝুঁকি মোকাবেলায় কয়েকটি জরুরি পরামর্শ দিয়েছেন—

১. শিশুদের সময়মতো এমআর টিকা নিশ্চিত করতে হবে।
২. আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখতে হবে।
৩. শিশুকে ভিটামিন-এ ও পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে।
৪. জ্বর, র‍্যাশ, শ্বাসকষ্ট বা খিঁচুনি দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।
৫. আক্রান্ত এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি ও সচেতনতা বাড়াতে হবে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, দ্রুত গণটিকাদান ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: