অধিকারপত্র ডটকম
বিশেষ প্রতিনিধি
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ঘোষণা দিয়ে আসছেন। সম্প্রতি রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক দলীয় কর্মসূচিতে তিনি আবারও স্পষ্টভাবে বলেছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে দলীয় পরিচয় বা পদমর্যাদা বিবেচনা না করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রীর এমন অবস্থানের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। বিশেষ করে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের কীভাবে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে, তা নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ।
ক্ষমতাসীন বিএনপি থেকে নির্বাচিত লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাৎ হোসেন সেলিম জানিয়েছেন, সংসদীয় কমিটি ও স্থায়ী কমিটির বৈঠকে মন্ত্রী-এমপিদের কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী নিয়মিতভাবে দলীয় নেতাদের সতর্ক করছেন এবং কোনও অনিয়মের বিষয়ে ছাড় না দেওয়ার বার্তা দিচ্ছেন।
গত ১০ মে রাজধানীর খামারবাড়িতে আয়োজিত বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু সরকারের কাছেই নয়, তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছেও জবাবদিহি করতে হবে মন্ত্রী-এমপিদের। তিনি আরও জানান, প্রতি তিন মাস অন্তর এ ধরনের সভার মাধ্যমে মন্ত্রীদের কার্যক্রম মূল্যায়ন করা হবে এবং সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ দলীয় নেতাকর্মীদের সামনে তুলে ধরা হবে।
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সরকারের এই অবস্থানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও অতীত অভিজ্ঞতার কারণে সংশয়ও প্রকাশ করছেন। বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ বলেছেন, অতীতের সরকারগুলোও শুরুতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলেছিল, কিন্তু পরে বাস্তব চিত্র ভিন্ন ছিল। তার মতে, সরকারের সদিচ্ছা থাকলে নিয়মিত সম্পদের হিসাব নেওয়ার মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব।
একই ধরনের মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি বলেন, জনগণ এখন বাস্তব প্রয়োগ দেখতে চায়। সরকারের কথার সঙ্গে কাজের মিল না থাকলে জনগণ হতাশ হবে।
সরকারের একাধিক সূত্রের দাবি, মন্ত্রী-এমপিদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে বিভিন্ন সংস্থা ও গোয়েন্দা ইউনিটকে সক্রিয় করা হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড সম্পর্কিত প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা পড়েছে বলেও জানা গেছে।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ বলেছেন, সরকার সবক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চায়। প্রধানমন্ত্রী নিয়মিতভাবে মন্ত্রী-এমপিদের কর্মকাণ্ডের খোঁজখবর রাখছেন এবং কোনও অনিয়মকারীকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
সংসদীয় কমিটি সুশাসন বাংলাদেশ সরকার রাজনৈতিক বিশ্লেষণ দুর্নীতি বিরোধী অভিযান জবাবদিহি মন্ত্রী-এমপি নজরদারি বিএনপি তারেক রহমান কায়কোবাদ দুর্নীতি বিরোধী অভিযান রাজনৈতিক বিশ্লেষণ বাংলাদেশ সরকার সুশাসন সংসদীয় কমিটি কায়কোবাদ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: