odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Tuesday, 26th May 2026, ২৬th May ২০২৬
৬০টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের মধ্যে ৩৭টি বাস্তবায়ন, বাকি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নাধীন

সরকারের ১০০ দিনে মন্ত্রিসভার ৬২ শতাংশ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়েছে : মাহদী আমিন

odhikarpatra | প্রকাশিত: ২৫ May ২০২৬ ২৩:৫৪

odhikarpatra
প্রকাশিত: ২৫ May ২০২৬ ২৩:৫৪

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬, ২১:৪৮

অধিকার পত্র ডেস্ক : সরকারের প্রথম ১০০ দিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় গৃহীত ৬০টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের মধ্যে ৬২ শতাংশ ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

সোমবার বিকেলে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে সরকারের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

মাহদী আমিন বলেন, ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৪ মে পর্যন্ত মোট ১০টি কেবিনেট সভায় ৬০টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর মধ্যে ৩৭টি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়েছে এবং অবশিষ্ট ২৩টি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তিনি বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে মন্ত্রিসভার অধিকাংশ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সরকারের কার্যকারিতা, আন্তরিকতা ও দ্রুততার পরিচয় বহন করে।

সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি বলেন, জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে গঠিত সরকার মাত্র ১০০ দিনেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জন করেছে। একই সঙ্গে মানুষের মধ্যে নতুন আশা, প্রত্যাশা ও আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

মাহদী আমিন বলেন, গৃহীত বহুমুখী পদক্ষেপের ফলে জনজীবনে স্বস্তি ও শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। তরুণ ও নারীদের ক্ষমতায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি মর্যাদাশীল ও স্বনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার মানবাধিকার, বাকস্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। তবে বাকস্বাধীনতার নামে অপপ্রচার, বিদ্বেষ ও চরিত্রহননের চর্চা গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মাহদী আমিন জানান, সরকার এমন একটি নীতিনির্ভর রাষ্ট্র গঠনে বিশ্বাস করে যেখানে দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিক মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সমান সুযোগ পাবে।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও দীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে অর্জিত বাংলাদেশে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অঙ্গীকারবদ্ধ। এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর স্লোগান ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করেন। এর মধ্যে রয়েছে—শ্রমিকদের ঈদের আগে বেতন-ভাতা ও বোনাস পরিশোধ নিশ্চিতকরণ, হজযাত্রীদের বিমানভাড়া কমানো, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত ইকোনমিক করিডোর বাস্তবায়নের প্রস্তুতি এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণ।

তিনি জানান, আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বিমানবন্দর ও ট্রেনে হাই-স্পিড ফ্রি ওয়াই-ফাই চালু, স্বাস্থ্য খাতে পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ এবং পাসপোর্ট ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মাহদী আমিন বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে আর্থিক খাত, ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও রাষ্ট্র কাঠামোয় সংস্কার কার্যক্রম চলছে।

তিনি আরও জানান, এস আলম গ্রুপের ৪ হাজার ২৬৪ কোটি টাকার স্থাবর সম্পদ জব্দ, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে কয়েকটি দেশের সঙ্গে চুক্তি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি এবং প্রায় দুই লাখ ফ্রিল্যান্সারকে রাষ্ট্রীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমিন বলেন, গত তিন মাসে প্রায় শতভাগ শিশুকে হামের টিকার আওতায় আনা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে যাতে এমন সংকট না হয় সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।

বাকস্বাধীনতার অপব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি সরকার ঐতিহাসিকভাবেই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে। তবে অশালীন আচরণ, অপপ্রচার ও চরিত্রহনন কখনোই বাকস্বাধীনতার অংশ হতে পারে না।

তিনি জানান, অপপ্রচার রোধে আইনি সংস্কারের বিষয়ে ভবিষ্যতে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সাগর-রুনি হত্যা মামলার বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার এ বিষয়টিকে অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছে এবং ভবিষ্যতে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

ঈদযাত্রা প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, যেকোনো প্রাণহানি দুঃখজনক। নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে ট্রেনের সংখ্যা ও নারীদের জন্য আলাদা বগি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, স্পিচ রাইটার এস এ এম মাহফুজুর রহমান, ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি মোস্তফা জুলফিকার হাসান, সুজন মাহমুদ, শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীনসহ প্রেস উইংয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: