odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Tuesday, 21st July 2026, ২১st July ২০২৬
ছাত্রনেতা থেকে রাষ্ট্রনায়ক; উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান।

বাঙালীর বীর জাতীয় প্রবীন নেতা তোফায়েল আহমেদ এখন হিমাগারে

odhikarpatra | প্রকাশিত: ১ June ২০২৬ ২৩:৫৯

odhikarpatra
প্রকাশিত: ১ June ২০২৬ ২৩:৫৯

হিমাগারে শীতল বাংলাদেশ তৈরীর অন্যতম কারিগর। 

অধিকার পত্র ডটকম 

দেশের প্রবীণ জাতীয় রাজনীতিবিদ, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা এবং সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গতকাল সোমবার (১ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

তাঁর মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রথম জানাজা আজ সোমবার বাদ মাগরিব ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানাজায় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শুভানুধ্যায়ী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে কিছু স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় ধানমন্ডি এলাকায় সাময়িক উত্তেজনা দেখা দেয় এবং কয়েকজনকে আটক করা হয়।

মরদেহ বর্তমানে হিমঘরে (মর্গে) রাখা হয়েছে।

দ্বিতীয় জানাজা ও দাফন  মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে মরদেহ ভোলায় নেওয়া হচ্ছে (হেলিকপ্টার বা ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে)। ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বাদ জোহর দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে ভোলা সদর উপজেলার কোড়ালিয়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে (বাবা-মায়ের কবরের পাশে) দাফন করা হবে।

জন্ম, শিক্ষা ও ছাত্ররাজনীতি
১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলার কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তোফায়েল আহমেদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় হন।  ১৯৬৭-১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ডাকসুর ভিপি ছিলেন। ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেন এবং রেসকোর্স ময়দানে শেখ মুজিবুর রহমানকে *‘বঙ্গবন্ধু’* উপাধি প্রদানের ঘোষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

 বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর ও মুক্তিযুদ্ধ
বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন তিনি। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সচিব (মন্ত্রীর মর্যাদায়) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধে সংগঠক হিসেবে মুজিব বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

 সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীত্ব
১৯৭০ সালে মাত্র ২৭ বছর বয়সে জাতীয় পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ৯ বার সংসদ সদস্য ছিলেন। শিল্পমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

 অধিকার পত্র ডটকম পরিবারের শোক
অধিকার পত্র ডটকম -এর সম্পাদক ও প্রকাশক  মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান পলাশ গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, “তোফায়েল আহমেদ ছিলেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষী।  বঙ্গবন্ধু উপাধি প্রদানকারী  ডাকসু ভিপি, বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর এবং মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে তাঁর অবদান অমর। ২০১২ সালে তিনি আমাকে আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রদান করেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ নেতাকে হারালো।” তিনি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: