odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Tuesday, 2nd June 2026, ২nd June ২০২৬
ইসলাম অবমাননা ও উসকানিমূলক মন্তব্যের’ অভিযোগ, বক্তব্য প্রত্যাহার ও ক্ষমা চাওয়ার দাবি

রুমিন ফারহানার বক্তব্যের প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

odhikarpatra | প্রকাশিত: ২ June ২০২৬ ২১:২৮

odhikarpatra
প্রকাশিত: ২ June ২০২৬ ২১:২৮

প্রকাশিত: ০২ জুন ২০২৬

অধিকার পত্র ডটকম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্র প্রদর্শনী বন্ধের প্রতিবাদে দেওয়া সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। তার বক্তব্যকে ইসলাম ধর্মের অবমাননা ও উসকানিমূলক আখ্যা দিয়ে মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মী ও স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষ।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ‘সচেতন ইসলাম প্রিয় জনতা’র ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে জেলা হেফাজতে ইসলাম, বিভিন্ন মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন হেফাজতে ইসলামের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির যুববিষয়ক সম্পাদক জুনায়েদ কাসেমী, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক এরশাদ উল্লাহ কাসেমী এবং সরাইল উপজেলা হেফাজতে ইসলামের সহসভাপতি হাজী মহিবুল ইসলাম।

বক্তারা অভিযোগ করেন, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্র প্রদর্শনী বন্ধের প্রতিবাদে আয়োজিত সমাবেশে রুমিন ফারহানা ইসলামের আজান ও ওয়াজ মাহফিল নিয়ে কটূক্তিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। তারা বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে এমন বক্তব্য জনগণ মেনে নেবে না।

জুনায়েদ কাসেমী বলেন, “ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাটিতে কোনো ধরনের অপসংস্কৃতি চলতে দেওয়া হবে না। ইসলাম ও ধর্মীয় মূল্যবোধ নিয়ে কেউ অবমাননাকর মন্তব্য করলে তার বিরুদ্ধে জনগণ প্রতিবাদ করবে।”

বক্তারা রুমিন ফারহানাকে বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ইসলাম ও ধর্মীয় বিষয় নিয়ে ‘আপত্তিকর মন্তব্য’ থেকে বিরত থাকারও দাবি জানান তারা।

এর আগে সোমবার সরাইলের শাহবাজপুর এলাকায় ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। সেখানে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ তুলে বলেন, জেলার সাংস্কৃতিক পরিবেশ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে।

তিনি বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে একসময় দেশের সংস্কৃতির রাজধানী বলা হতো। কিন্তু বর্তমানে সিনেমা হল, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও শিল্প-সাহিত্যচর্চা নানা বাধার মুখে পড়ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

রুমিন ফারহানা আরও বলেন, “আমরা যেমন সুমধুর আজান শুনেছি, তেমনি বাউল গানও শুনেছি। বাংলাদেশের সংস্কৃতি বহুমাত্রিক এবং সহনশীলতার ঐতিহ্য বহন করে।”

এদিকে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্র প্রদর্শনী নিয়েও কয়েকদিন ধরে বিতর্ক চলছে। গত শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটির উদ্যোগে চলচ্চিত্রটি প্রদর্শনের আয়োজন করা হলেও বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের আপত্তির মুখে কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। পরে কসবা উপজেলার একটি স্কুল মাঠে ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রদর্শনীর চেষ্টা করা হলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সেটিও বন্ধ হয়ে যায়।

রুমিন ফারহানার বক্তব্যকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

রুমিন ফারহানার বক্তব্যের প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

#রুমিন_ফারহানা #হেফাজতে_ইসলাম #ব্রাহ্মণবাড়িয়া #বনলতা_এক্সপ্রেস #মানববন্ধন #বাংলাদেশ_রাজনীতি

 



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: