odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Sunday, 19th July 2026, ১৯th July ২০২৬
ভোলা ও তোফায়েল আহমেদের জানাজার নামে অন্তত তিনটি পুরোনো ভিডিও নতুন করে প্রচার; ফ্যাক্ট চেকে বেরিয়ে এলো ভিন্ন ঘটনার তথ্য

তোফায়েল আহমেদের জানাজা ঘিরে পুরোনো ভিডিও ছড়িয়ে অপপ্রচার, মিলল না দাবির সত্যতা

odhikarpatra | প্রকাশিত: ২ June ২০২৬ ২১:২৮

odhikarpatra
প্রকাশিত: ২ June ২০২৬ ২১:২৮

অধিকার পত্র ডটকম

ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদক | ঢাকা
প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬

সাবেক শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদের মৃত্যু ও জানাজাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক বিভ্রান্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন পোস্টে এসব ভিডিওকে ভোলায় তার জানাজাকে ঘিরে সংঘর্ষ, হামলা কিংবা জনরোষের ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও তথ্য-যাচাইয়ে দেখা গেছে, ভিডিওগুলোর কোনোটির সঙ্গেই তোফায়েল আহমেদের জানাজা বা ভোলার কোনো সম্পর্ক নেই।

যাচাইয়ে দেখা যায়, ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে সেনাবাহিনীর একটি গাড়িকে ঘিরে জনতার ধাওয়া করার দৃশ্য রয়েছে। পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়, তোফায়েল আহমেদের জানাজায় মানুষের অংশগ্রহণ ঠেকাতে গিয়ে সেনাবাহিনীর গাড়ি হামলার মুখে পড়ে। কিন্তু অনুসন্ধানে জানা যায়, ভিডিওটি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে খাগড়াছড়িতে সংঘটিত ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনের সময় ধারণ করা হয়েছিল।

সেই সময় পাহাড়ি এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে আন্দোলন চলাকালে আন্দোলনের নেতা ক্যুনান চাকমাকে গ্রেপ্তার করা হলে স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়ার দৃশ্য হিসেবে ভিডিওটি বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। স্থানীয় সাংবাদিক ও তৎকালীন সংবাদ প্রতিবেদনের তথ্যও একই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে।

অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আরেকটি ২৬ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ লাঠি হাতে কয়েকজনকে ধাওয়া করছে। ভিডিওটির সঙ্গে ‘তোফায়েল আহমেদের জানাজা ঘিরে রণক্ষেত্র ভোলা শহর’ শিরোনাম জুড়ে দেওয়া হয়। তবে যাচাইয়ে দেখা গেছে, এটি ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর রাজধানীতে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের একটি ঝটিকা মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশের ধাওয়ার দৃশ্য। ঘটনার সঙ্গে ভোলা কিংবা জানাজার কোনো সম্পর্ক নেই।

আরেকটি ভাইরাল ভিডিওতে কয়েকজন ব্যক্তির মধ্যে হাতাহাতির দৃশ্য দেখিয়ে দাবি করা হয়, ভোলায় জানাজায় অংশ নিতে আসা মানুষকে বাধা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু ভিডিওটির বিভিন্ন ফ্রেম বিশ্লেষণ এবং পুরোনো প্রকাশনার তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, এটি অন্তত ২০২৫ সালের অক্টোবর মাস থেকে অনলাইনে রয়েছে। ঘটনাটি রাজধানীর জিয়া উদ্যানসংলগ্ন এলাকায় সংঘটিত হয়েছিল এবং তোফায়েল আহমেদের জানাজার সঙ্গে এর কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি।

অনুসন্ধানে আরও দেখা যায়, যেসব ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও পেজ থেকে এসব বিভ্রান্তিকর দাবি প্রচার করা হয়েছে, সেগুলোর বেশ কয়েকটি নিয়মিত রাজনৈতিক প্রচারণামূলক ও যাচাইবিহীন তথ্য প্রকাশ করে থাকে। অতীতেও এসব উৎস থেকে ছড়ানো একাধিক তথ্য বিভিন্ন ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠানের যাচাইয়ে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবার ভোলায় তোফায়েল আহমেদের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হলেও জাতীয় বা স্থানীয় কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমে সেনাবাহিনী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা সাধারণ মানুষের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষের তথ্য পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয় এবং শেষ শ্রদ্ধা জানাতে হাজারো মানুষ অংশ নেন।

তথ্য-যাচাই বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরোনো ভিডিও নতুন দাবিতে প্রচারের প্রবণতা বাড়ছে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কোনো ভিডিও বা তথ্য শেয়ার করার আগে উৎস, সময় এবং ঘটনার সত্যতা যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

তোফায়েল আহমেদের জানাজা ঘিরে পুরোনো ভিডিও ছড়িয়ে অপপ্রচার, মিলল না দাবির সত্যতা

#ফ্যাক্টচেক #তোফায়েল_আহমেদ #ভোলা #ভুয়া_তথ্য #সামাজিক_যোগাযোগমাধ্যম #অপপ্রচার #অধিকারপত্র

 



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: