odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Wednesday, 8th July 2026, ৮th July ২০২৬

প্রশ্নফাঁস ও ডিজিটাল জালিয়াতি ঠেকাতে কঠোর আইন, সংসদে পাস হলো পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) সংশোধন বিল-২০২৬

odhikarpatra | প্রকাশিত: ৭ July ২০২৬ ২২:০৯

odhikarpatra
প্রকাশিত: ৭ July ২০২৬ ২২:০৯

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা | ৭ জুলাই ২০২৬

প্রশ্নপত্র ফাঁস, ডিজিটাল জালিয়াতি, জাল সনদ তৈরি এবং প্রযুক্তিনির্ভর অন্যান্য পরীক্ষা-সংক্রান্ত অপরাধ দমনে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে জাতীয় সংসদে পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) (সংশোধন) বিল, ২০২৬ পাস হয়েছে।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বিলটি উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়। নতুন সংশোধনের মাধ্যমে ১৯৮০ সালের বিদ্যমান আইনের বিভিন্ন ধারা যুগোপযোগী করা হয়েছে, যাতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা যায়।

নতুন আইনে প্রথমবারের মতো ‘ডিজিটাল কারসাজি’-এর সংজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর আওতায় পরীক্ষার ডাটাবেজে অননুমোদিত প্রবেশ, হ্যাকিং, তথ্য পরিবর্তন, মুছে ফেলা বা গোপন করার মতো কর্মকাণ্ডকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। এসব অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

পরীক্ষাকেন্দ্রে নিষিদ্ধ ইলেকট্রনিক ডিভাইস বহন বা ব্যবহারের চেষ্টা এবং পরীক্ষা কর্তৃপক্ষের বৈধ নির্দেশনা ইচ্ছাকৃতভাবে অমান্য করাও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে যুক্ত হয়েছে। এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে।

সংশোধিত আইনে প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র ফাঁসের শাস্তিও আরও কঠোর করা হয়েছে। পরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্র বা উত্তরপত্র নিজের কাছে রাখা, প্রকাশ, প্রচার বা বিতরণ করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান থাকবে।

এছাড়া অনুমোদন ছাড়া পরীক্ষাকেন্দ্র স্থাপন বা পরিচালনা, অবৈধ পরীক্ষার জন্য নিজস্ব স্থাপনা ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া এবং এ ধরনের কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

উত্তরপত্র মূল্যায়নে ইচ্ছাকৃতভাবে অতিরিক্ত বা কম নম্বর দিয়ে ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে।

নতুন আইনে কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা পরীক্ষা-সংক্রান্ত অপরাধে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহায়তা করলে কিংবা যথাযথ তদারকিতে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে দায়িত্বশীল কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের প্রমাণ দিতে পারলে দায়মুক্তি পাবেন।

অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিযুক্তদের বিচার শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী কিশোর বিচারব্যবস্থার আওতায় পরিচালিত হবে। পাশাপাশি সৎ উদ্দেশ্যে পরীক্ষা-সংক্রান্ত অনিয়মের তথ্য প্রকাশকারী তথ্যদাতাদের (হুইসেলব্লোয়ার) আইনি সুরক্ষাও নিশ্চিত করা হয়েছে।

সংশোধিত আইনে সব ধরনের পরীক্ষা-সংক্রান্ত অপরাধকে আমলযোগ্য (কগনিজেবল) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আদালতের পূর্বানুমতি ছাড়াই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে। এছাড়া আইন বাস্তবায়নের জন্য সরকারি গেজেটের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় বিধিমালা প্রণয়নের ক্ষমতাও সরকারকে দেওয়া হয়েছে।

সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে সংঘটিত আধুনিক পরীক্ষা জালিয়াতি রোধ এবং পাবলিক পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, বিশ্বাসযোগ্যতা ও ন্যায়সংগত পরিবেশ নিশ্চিত করতেই এ সংশোধনী আনা হয়েছে।

সূত্র: বাসস



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: