অধিকারপত্র ডটকম
নিজস্ব প্রতিবেদক ০৫ আগস্ট ২০২৬ |
ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সংঘটিত প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে সম্পন্ন করা হবে। তিনি বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে অতীতের সব অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধনের পর অনুষ্ঠিত ‘জুলাই ৩৬’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বিগত ১৭ বছর এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত, গুম ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের নামকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর একক অর্জন নয়; এটি দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের সম্মিলিত আন্দোলন। তাই স্মৃতি জাদুঘরটি যেন কোনো রাজনৈতিক পক্ষের বয়ান প্রতিষ্ঠার জায়গা না হয়ে জাতীয় ইতিহাস সংরক্ষণের নিরপেক্ষ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে।
তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ যেমন স্বাধীনতা অর্জনের ইতিহাস, তেমনি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল জনগণের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার সংগ্রাম। তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এই আত্মত্যাগের ইতিহাস যথাযথভাবে তুলে ধরা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টা সম্পর্কে সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অযৌক্তিক ইস্যু তৈরি করে কেউ যেন অনিচ্ছাকৃতভাবে পতিত স্বৈরাচারী শক্তির পুনরুত্থানের সুযোগ সৃষ্টি না করে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর আহতদের থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, তুরস্ক ও রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমানে ৫০ জন আহত যোদ্ধা বিদেশে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং গেজেটভুক্ত ১৩ হাজারের বেশি জুলাই যোদ্ধাকে মাসিক সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে।
রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির ৩১ দফা, নির্বাচনী ইশতেহার এবং জুলাই সনদের বিভিন্ন অঙ্গীকার বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটিও কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
এ সময় মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, কূটনীতিক, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য, জুলাই যোদ্ধা, শিক্ষাবিদ, সংস্কৃতিজন ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: