নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র
নেপালের মধ্যাঞ্চলীয় বাগমাতি প্রদেশের রসুয়া ও এর পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে আঘাত হানা ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা এবং ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৬০ জনে দাঁড়িয়েছে। ২০১৫ সালের শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর এটিকে দেশটির সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এই ধ্বংসাত্মক বিপর্যয়ে এখনো পর্যন্ত ৭৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের একটি বড় অংশই বিদেশি পর্যটক।
প্রাণহানি ও বিদেশি পর্যটকদের নিখোঁজের চিত্র
সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে চিতওয়ান, গোর্খা, ধাদিং, নুয়াকোট ও রসুয়া জেলায়। নদীর তীব্র পানির তোড়ে ঘরবাড়ি, গ্রাম, মন্দির, সেতু ও বাজার তলিয়ে গেছে।
নেপাল পর্যটন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজদের মধ্যে প্রায় ৪৬৬ জনই বিদেশি পর্যটক। বিভিন্ন দেশের নিখোঁজ নাগরিকদের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
ভারত: ১৩৩ জন, যুক্তরাষ্ট্র: ৫৪ জন ,অস্ট্রেলিয়া: ৩৪ জন, যুক্তরাজ্য: ৩৩ জন, কানাডা: ২৪ জন, মালয়েশিয়া: ১৯ জন , দক্ষিণ কোরিয়া: ৮ জন। এছাড়া বিভিন্ন দেশের অন্যান্য নাগরিকসহ ৬১ জন নেপালি নাগরিকও নিখোঁজ রয়েছেন।
ট্যুর অপারেটরদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ এই পর্যটকদের বেশিরভাগই ভারত ও নেপালের সীমান্তবর্তী মানস সরোবরের উদ্দেশে যাত্রা করেছিলেন।
দুর্যোগের প্রকৃত কারণ
প্রাথমিকভাবে তিব্বতে সংঘটিত একটি ভূমিকম্পকে বন্যার কারণ মনে করা হলেও, পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) নিশ্চিত করেছে যে এটি আসলে একটি হিমবাহ ধস (glacial collapse) ছিল। এই বরফধসের ফলে নদীর গতিপথ আকস্মিকভাবে আটকে গিয়ে পরবর্তীতে বিশাল পানির চাপে এই ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। তিব্বতের গিরং এলাকায়ও এই দুর্যোগে অন্তত ৩ জনের মৃত্যুর এবং ২৬৫ জন নিখোঁজ থাকার খবর পাওয়া গেছে।
অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি ও বিদ্যুৎ সংকট
বিদ্যুৎ খাত: জলবিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎ মিলিয়ে প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
অন্যান্য অবকাঠামো: নদীর তীরবর্তী অসংখ্য গ্রাম, সেতু, রাস্তাঘাট, ব্যাংক এবং কাস্টমস অফিস প্রবল পানির তোড়ে ভেসে গেছে।
উদ্ধার অভিযান ও আন্তর্জাতিক সহায়তা
পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেপাল সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে হেলিকপ্টার, ড্রোন, নৌকা এবং স্থল দল নিয়ে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি চীন প্রায় ৮০০ উদ্ধারকর্মী ও ১৫০টি যানবাহন মোতায়েন করেছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকেও সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে:
যুক্তরাষ্ট্র: জরুরি সহায়তা হিসেবে ৫ লাখ ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
চীন: প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং নিখোঁজদের উদ্ধারে সর্বাত্মক অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
জাতিসংঘ: ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি ত্রাণ ও সহায়তা পাঠাচ্ছে।
দ্বিতীয় দফার বন্যার আশঙ্কা ও সতর্কতা
কাঠমান্ডুভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইসিমোড (ICIMOD) তীব্র সতর্কতা জারি করে জানিয়েছে যে, নদীর উজানে এখনো বরফধসের কারণে প্রতিবন্ধকতা বা বাঁধের মতো পরিস্থিতি বজায় রয়েছে। এর ফলে যেকোনো সময় দ্বিতীয় দফায় আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে। নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: