অধিকার পত্র প্রতিবেদক | ঢাকা
শিক্ষা ও গবেষণায় নৈতিকতা, মৌলিকত্ব এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অভিন্ন চৌর্যবৃত্তি প্রতিরোধ নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।
নীতিমালার খসড়া চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ইউজিসি ভবনে দেশের ১৮টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও মনোনীত প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে একটি অংশীজন সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
সংলাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, দেশের কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি প্রতিরোধে নিজস্ব নীতিমালা থাকলেও অনেক প্রতিষ্ঠানে এখনো সুনির্দিষ্ট কাঠামো নেই। এ কারণে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি অভিন্ন নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চাইলে প্রস্তাবিত নীতিমালা সরাসরি অনুসরণ করতে পারবে। আবার নিজেদের বাস্তবতা ও সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে এই নীতিমালার আলোকে পৃথক নীতিমালাও তৈরি করতে পারবে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অ্যাকাডেমিক স্বাধীনতা বজায় থাকবে।
ইউজিসি চেয়ারম্যান জানান, অংশীজন সংলাপে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ মতামত ও সুপারিশ খসড়া নীতিমালায় যুক্ত করা হবে। এরপর কমিশনের পূর্ণাঙ্গ সভায় নীতিমালাটি চূড়ান্ত করে বাস্তবায়নের জন্য দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হবে।
৭ বছরে ৩২৫ গবেষণাপত্র প্রত্যাহার
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব গবেষণায় নৈতিকতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।
তিনি জানান, গবেষণায় নৈতিকতা লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন কারণে ২০১৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বিভিন্ন স্বনামধন্য জার্নাল থেকে বাংলাদেশি গবেষকদের অন্তত ৩২৫টি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করা হয়েছে।
একটি অভিন্ন কাঠামো কার্যকর হলে গবেষণার মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের গবেষণার গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানো সহজ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
চৌর্যবৃত্তি ও এআই ব্যবহারে নৈতিকতার বিষয়ও থাকছে
প্রস্তাবিত নীতিমালায় গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির বিভিন্ন ধরন, তা শনাক্ত করার পদ্ধতি, তদন্ত প্রক্রিয়া, দায় নির্ধারণ এবং শাস্তির বিধান অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
এ ছাড়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ ও প্রক্রিয়া এবং গবেষণা ও অ্যাকাডেমিক কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে নৈতিকতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক মো. মেহেদী হাসান খান, অধ্যাপক ড. মো. আসলাম হোসেন ও অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া ইউজিসি সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের পরিচালক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশীজন সংলাপে অংশ নেন।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: