odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Monday, 7th September 2026, ৭th September ২০২৬

ডেঙ্গু ঠেকাতে দেশজুড়ে সামাজিক আন্দোলনের ডাক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর

odhikarpatra | প্রকাশিত: ৬ September ২০২৬ ২৩:৩৮

odhikarpatra
প্রকাশিত: ৬ September ২০২৬ ২৩:৩৮

অধিকার পত্র প্রতিবেদক | ঢাকা

ডেঙ্গুর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এখন থেকেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি দেশজুড়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ অথবা অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে দেশে ডেঙ্গু সংক্রমণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এখন থেকেই বাসাবাড়ি, কর্মস্থল ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদের জেনারেল ওসমানী গেটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে বাড়তে পারে সংক্রমণ

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত তিন-চার বছরের তথ্য-উপাত্ত ও এপিডেমিওলজিক্যাল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বৃষ্টির ধরন, উষ্ণ তাপমাত্রা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সাধারণত সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ে।

এখন থেকেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার না করলে আগামী মাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে যুক্ত করে সামাজিক আন্দোলন

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি কর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক সংগঠনকে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, রেড ক্রিসেন্ট, স্কাউটস, গার্লস গাইডসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনকে যুক্ত করে এক-দুই দিনের মধ্যেই সমন্বিত সামাজিক আন্দোলন শুরু করা হবে।

বিশেষ করে ঢাকা শহরের অ্যাপার্টমেন্ট ভবনগুলোতে বাইরের কর্মীদের প্রবেশে নানা সীমাবদ্ধতা থাকায় অ্যাপার্টমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন ও বাসিন্দাদের নিজেদের উদ্যোগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

শাস্তি নয়, নাগরিক সচেতনতায় গুরুত্ব

ডেঙ্গু মোকাবিলায় পুলিশি নজরদারি বা শাস্তির চেয়ে নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ডেঙ্গুর মতো সংক্রামক রোগ শুধু নজরদারির মাধ্যমে নির্মূল করা সম্ভব নয়। সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

হাসপাতালগুলোতে প্রস্তুতি বাড়ানোর উদ্যোগ

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, ডেঙ্গু মোকাবিলায় চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে রোগীর সংখ্যা বাড়লেও যাতে চিকিৎসাসেবায় সংকট তৈরি না হয়, সে জন্য হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।

বর্তমানে হাসপাতালে কোনো শয্যাসংকট নেই জানিয়ে তিনি বলেন, সম্ভাব্য রোগীর চাপ মোকাবিলায় সোমবার দেশের সব সিভিল সার্জনের সঙ্গে জুম বৈঠক করা হবে। বৈঠকে অতিরিক্ত শয্যা প্রস্তুত রাখা, পর্যাপ্ত স্যালাইন ও ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট মজুত নিশ্চিত করার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হবে।

৩০০ চিকিৎসককে প্রশিক্ষণ

ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার কমাতে সোসাইটি অব মেডিসিনের সহযোগিতায় প্রায় ৩০০ চিকিৎসককে ডেঙ্গুর স্ট্যান্ডার্ড ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

হাসপাতালের ভেতরে ডেঙ্গু সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে পর্যাপ্ত মশারি বিতরণ এবং হাসপাতালের আশপাশের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।

মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার

মশক নিধন কার্যক্রম প্রসঙ্গে ড. এম এ মুহিত বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও সিটি করপোরেশনগুলোর সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দুই মাস ধরে সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।

গত কয়েক বছরের ডেঙ্গুতে মৃত্যুর পরিসংখ্যান উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিটি মৃত্যুই অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এবার সম্ভাব্য প্রকোপের অন্তত এক মাস আগে থেকেই সরকার সমন্বিত পদক্ষেপ জোরদার করেছে।

সবশেষে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: