অধিকার পত্র প্রতিবেদক | ঢাকা
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিলকে ‘দুর্বল’ ও সীমিত পরিসরের দাবি করে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দল।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে বিল দুটি পাসের প্রক্রিয়া শুরুর ঠিক আগে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান ওয়াকআউটের ঘোষণা দেন। পরে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা সংসদ কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।
‘প্রতিশ্রুতির চেয়ে দুর্বল বিল আনা হয়েছে’
সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এর আগে সরকার শক্তিশালী ও আরও কার্যকর আইন প্রণয়নের কথা বলেছিল। কিন্তু বাস্তবে আগের অধ্যাদেশ বাতিল করে তার চেয়ে দুর্বল ও সীমিত পরিসরের দুটি বিল আনা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এর আগে গত ২৭ আগস্ট বিল দুটি জাতীয় সংসদে উত্থাপনের দিনও ওয়াকআউট করেছিল বিরোধী দল। একই সঙ্গে সংসদীয় কমিটিতে বিল দুটির ওপর আলোচনা থেকেও তারা বিরত ছিল।
বিরোধী দলের অভিযোগ, ভুক্তভোগী জনগণ, সংশ্লিষ্ট অংশীজন এবং দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠনের মতামত যথাযথভাবে বিবেচনায় না নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশ দুটি রহিত করা হয়েছে। সে সময় আরও শক্তিশালী আইন করার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, নতুন বিলগুলোতে তা প্রতিফলিত হয়নি বলে দাবি তাদের।
মানবাধিকার আইনে ‘দ্বৈত প্রয়োগের’ অভিযোগ
রোববার সংসদে বিল দুটি বিবেচনার জন্য উত্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু হলে বিরোধীদলীয় নেতা ফ্লোর নিয়ে তাঁদের অবস্থান তুলে ধরেন।
শফিকুর রহমান বলেন, প্রস্তাবিত মানবাধিকার আইনে আইনের প্রয়োগের ক্ষেত্রে বৈষম্যের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সাধারণ কোনো ব্যক্তি মানবাধিকার লঙ্ঘন করলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সরাসরি তদন্ত করতে পারবে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ক্ষেত্রে বিশেষ বিধান থাকায় তদন্তের ক্ষেত্রে ভিন্ন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, একই ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে একজনের বিরুদ্ধে সরাসরি তদন্ত করা যাবে, অথচ অন্য ক্ষেত্রে বিশেষ বিধানের কারণে তা আটকে যাবে—এ ধরনের দ্বৈত ব্যবস্থা গ্রহণযোগ্য কি না।
‘এই আইন পাসের অংশীদার হব না’
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বিলগুলো আগের অধ্যাদেশের তুলনায় দুর্বল আকারে আনা হচ্ছে—এমন অবস্থান বিরোধী দল আগেই স্পষ্ট করেছে। তাই এসব আইন পাসের প্রক্রিয়ার অংশ না হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বিরোধী দল বিল দুটির আলোচনায় অংশ নেবে না এবং সেই অবস্থান থেকেই তারা ওয়াকআউট করছে।
এরপর বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা সংসদ কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।
উল্লেখ্য, গত ২৭ আগস্ট বিল দুটি সংসদে উত্থাপনের আগেও বিরোধী দল ওয়াকআউট করেছিল। তখন তারা জানিয়েছিল, সংস্কারের মূল দাবিকে পাশ কাটিয়ে খণ্ডিত কোনো প্রক্রিয়ার অংশ হতে তারা আগ্রহী নয়।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: