odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Tuesday, 8th September 2026, ৮th September ২০২৬
গণতন্ত্র রক্ষায় স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের গুরুত্ব তুলে ধরে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।

গণতন্ত্র বাঁচাতে হলে গণমাধ্যমকেও বাঁচাতে হবে: রাষ্ট্রপতি

odhikarpatra | প্রকাশিত: ৮ September ২০২৬ ২২:০৪

odhikarpatra
প্রকাশিত: ৮ September ২০২৬ ২২:০৪

অধিকার ডেস্ক | ঢাকা, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান শক্তি গণমাধ্যম উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গণতন্ত্রকে কার্যকর ও টেকসই করতে হলে স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যমকেও সুরক্ষিত রাখতে হবে। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সুশাসনের পক্ষে সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বঙ্গভবনে জাতীয় প্রেসক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, গণতন্ত্রের মূল শক্তি হচ্ছে গণমাধ্যম। তাই গণতন্ত্র রক্ষার পাশাপাশি গণমাধ্যমকেও রক্ষা করতে হবে। সাংবাদিকদের সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থেকে দেশের স্বার্থে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

সাংবাদিকদের ঐক্যের আহ্বান

জাতীয় প্রেসক্লাবের সঙ্গে নিজের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রেসক্লাবের সঙ্গে তার সম্পর্ক শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং দীর্ঘদিনের আত্মিক সম্পর্ক। জীবনের কঠিন সময়ে সাংবাদিক সমাজ তার পাশে ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সাংবাদিকদের কল্যাণে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, তার অবস্থান থেকে সাংবাদিকদের জন্য যতটুকু করার সুযোগ রয়েছে, তিনি তা করার চেষ্টা করবেন।

সাংবাদিক সমাজের মধ্যে ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বিভক্তি কখনো সাফল্য বয়ে আনে না। মৌলিক বিষয়গুলোতে সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ হতে পারলে সরকার ও বিরোধী দলের সঙ্গে আরও কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

ছাঁটাই ও অনিয়ম বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান

সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অনিয়ম ও গণহারে সাংবাদিক ছাঁটাইয়ের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

সংবাদকর্মীদের কর্মসংস্থানের সংকট মোকাবিলায় বন্ধ হয়ে যাওয়া পত্রিকাগুলো পুনরায় চালুর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। রাষ্ট্রপতির মতে, বন্ধ ও বিশেষ ট্রাস্টের অধীনে থাকা পত্রিকাগুলো চালু করা গেলে অন্তত এক হাজার সাংবাদিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এ ক্ষেত্রে দৈনিক বাংলাসহ বন্ধ থাকা অন্যান্য সংবাদপত্র পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তরুণ প্রজন্মের মধ্যে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ তৈরির আহ্বান

দেশে গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে তরুণ প্রজন্মের চিন্তা ও মানসিকতায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

তিনি বলেন, গণতন্ত্র শুধু একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা নয়, এটি একটি সংস্কৃতিও। গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে হলে মানুষের চিন্তা ও মানসিকতায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে। পুরোনো কর্তৃত্ববাদী চিন্তা থেকে বেরিয়ে এসে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ধারণ করা জরুরি।

আন্দোলনের মাধ্যমে পরিবর্তন এলেও মানুষের মানসিকতায় পুরোনো কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা থেকে গেলে প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সরকারের সমালোচনার পাশাপাশি ভালো কাজ তুলে ধরার আহ্বান

রাষ্ট্রপতি গণমাধ্যমকে সরকারের যৌক্তিক ও গঠনমূলক সমালোচনা করার পাশাপাশি সরকারের ভালো উদ্যোগ ও কাজগুলোও যথাযথভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, জনগণের নির্বাচিত সরকারকে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় সময় দিতে হবে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধসহ বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের বিষয়টিও গণমাধ্যমে যথাযথভাবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

প্রেসক্লাবের উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস

জাতীয় প্রেসক্লাবের দীর্ঘ ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা উল্লেখ করেন।

দেশের গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সরকারের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয়ের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। প্রেসক্লাবের অবকাঠামো সম্প্রসারণে সাংবাদিক নেতাদের সহযোগিতার অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতি সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

দ্রুত ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নের দাবি

সাক্ষাৎকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ প্রতিনিধিদলের সদস্যদের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন এবং সংগঠনের পক্ষ থেকে তাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। পাশাপাশি সুবিধাজনক সময়ে রাষ্ট্রপতিকে জাতীয় প্রেসক্লাবে আমন্ত্রণ জানান তিনি।

সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া প্রেসক্লাবের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির পুরোনো সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন।

ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য কাদের গনি চৌধুরী সাংবাদিকতায় দায়িত্বশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের কল্যাণে দ্রুত দশম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নে সরকার ও রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

সদস্য সৈয়দ আবদাল আহমদও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে অতীতের স্মৃতিচারণ করেন এবং গণতন্ত্র রক্ষায় তার ভূমিকার কথা স্মরণ করেন।

সাক্ষাৎকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য কাদের গনি চৌধুরী, আবদুল হাই শিকদার, সৈয়দ আবদাল আহমদ, কোষাধ্যক্ষ বখতিয়ার রাণা, কাজী রওনাক হোসেন, জাহিদুল ইসলাম রনি, শাহনাজ বেগম পলি, মাসুমুর রহমান খলিলী, এ কে এম মোহসিন ও মোহাম্মদ মোমিন হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: