odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Wednesday, 9th September 2026, ৯th September ২০২৬

দেশে ফিরলে বিমানবন্দরেই আমাকে হত্যা করা হতে পারে’: শেখ হাসিনা

odhikarpatra | প্রকাশিত: ৯ September ২০২৬ ০০:৪৪

odhikarpatra
প্রকাশিত: ৯ September ২০২৬ ০০:৪৪

অনলাইন প্রতিবেদক | অধিকার পত্র

দেশে ফেরার ইচ্ছা থাকলেও নিজের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, দেশে ফিরলে বিমানবন্দরেই তাকে হত্যা করা হতে পারে।

ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল-এর এক্সিকিউটিভ এডিটর অমল সরকারের সঙ্গে টেলিফোনে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নিজের দেশে ফেরার পরিকল্পনা, নিরাপত্তা, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন।

দেশে ফিরতে চান কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ তার নিজের দেশ। তাই তাকে দেশে ফিরতে দেওয়া হবে না কেন—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি। তবে একই সঙ্গে দেশে ফেরার পর নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কথা জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, “আমি ফিরলে এয়ারপোর্টেও আমাকে হত্যা করতে পারে।”

নিজের নিরাপত্তার পাশাপাশি দেশে ফেরার উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত অন্য ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার ভাষ্য, প্রত্যেকের জীবনই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে এবং নিজের দেশে ফেরার জন্য কাউকে নির্দেশ দিয়ে তিনি বিপদের মুখে ফেলতে চান না।

বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ নিয়ে ভারতের জন্যও সতর্কবার্তা

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন, দেশে জঙ্গিবাদী শক্তির উত্থান ঘটছে। এর প্রভাব শুধু বাংলাদেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।

শেখ হাসিনার দাবি, “বাংলাদেশে জঙ্গিবাদীদের উত্থানের খেসারত ভারতকেও দিতে হবে।”

তার মতে, বাংলাদেশের অস্থিতিশীলতা এবং মৌলবাদী শক্তির বিস্তার প্রতিবেশী ভারতের নিরাপত্তা ও পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে। এ কারণে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

ভারতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

বাংলাদেশের নির্বাচন এবং তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়ে ভারত সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, “ভারত সরকার কী ভেবে বাংলাদেশের নির্বাচন সমর্থন করল, তারেককে ফিরিয়ে আনল—সেটা ভারত সরকারই ভালো বলতে পারবে।”

তবে একই সঙ্গে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। কোনো সামরিক জোটের পরিবর্তে আঞ্চলিক সহযোগিতাকে গুরুত্ব দেওয়ার পক্ষে মত দেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমানকে নিয়ে শেখ হাসিনার বক্তব্য

সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়েও সমালোচনা করেন শেখ হাসিনা।

তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে দর-কষাকষির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এ ধরনের দর-কষাকষি দেশের মর্যাদাকে খাটো করে।

শেখ হাসিনার অভিযোগ, তারেক রহমান একসময় রাজনীতি না করার মুচলেকা দিয়ে বাংলাদেশ ছেড়েছিলেন। এরপর লন্ডনে অবস্থান করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

এ সময় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সহিংসতার নির্দেশ দেওয়ারও অভিযোগ তোলেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “তারেক জিয়া লন্ডন থেকে নির্দেশ দেয়, লাশ ফেলো। সরকার পড়ে যাবে।”

এগুলো শেখ হাসিনার বক্তব্য ও অভিযোগ। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের দায়িত্বে শেখ সেলিম

আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়েও কথা বলেছেন শেখ হাসিনা। তার অনুপস্থিতিতে দলের সভাপতির দায়িত্ব কে পালন করবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নাম উল্লেখ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, “এখন শেখ সেলিম সিনিয়র মোস্ট প্রেসিডিয়াম সদস্য। আমার অনুপস্থিতিতে তিনি সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।”

অর্থাৎ, শেখ হাসিনার বক্তব্য অনুযায়ী, তার অনুপস্থিতিতে দলের সভাপতির দায়িত্ব শেখ সেলিম পালন করবেন। একই সাক্ষাৎকারে শেখ রেহানার সক্রিয় রাজনীতিতে আসার সম্ভাবনাও নাকচ করে দেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, “রেহানা সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত নয়।”

‘আমার দেশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে’

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন শেখ হাসিনা। দেশের পরিস্থিতি তাকে কতটা কষ্ট দিচ্ছে তা বোঝাতে তিনি বলেন, “আমার তো হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়, যখন দেখছি আমার দেশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।”

দেশে ফেরার আকাঙ্ক্ষার কথা পুনর্ব্যক্ত করলেও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথা জানান তিনি। একই সঙ্গে তার প্রত্যাবর্তনের কারণে অন্য কারও জীবন যাতে ঝুঁকির মধ্যে না পড়ে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার কথা বলেন।

দ্য ওয়ালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনার বক্তব্যে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক, তারেক রহমানের নেতৃত্ব, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব এবং দেশে ফেরার নিরাপত্তা—সবগুলো বিষয়ই উঠে এসেছে।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: