odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Thursday, 10th September 2026, ১০th September ২০২৬
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ছাগলে শিমগাছ খাওয়াকে কেন্দ্র করে নারীকে ফুটন্ত পানি ঢেলে ঝলসে দেওয়ার অভিযোগে দুই নারী গ্রেপ্তার।

ছাগলে শিমগাছ খাওয়াকে কেন্দ্র করে নারীকে ফুটন্ত পানি ঢেলে ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ২

odhikarpatra | প্রকাশিত: ৯ September ২০২৬ ২৩:৫৯

odhikarpatra
প্রকাশিত: ৯ September ২০২৬ ২৩:৫৯

নোয়াখালী ম্যাপ (ইনসেটে দগ্ধ নারী), সংগৃহীত 

অধিকার পত্র ডেস্ক:
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় ছাগলে শিমগাছ খাওয়াকে কেন্দ্র করে কুলছুমা (৩০) নামে এক নারীকে ফুটন্ত গরম পানি ঢেলে ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত ওই নারী বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় কুলছুমার সৎ ছেলের স্ত্রী ও নাতির স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে চরজব্বার থানা পুলিশ। গ্রেপ্তার দুজন হলেন—নাজমা ও আকলিমা।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে ভুক্তভোগীর বাবা মো. জামসেদ বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে চরজব্বার থানায় মামলা করেন। এর আগে রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

শিমগাছ খাওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধ

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, আব্দুল গনির প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তিনি কুলছুমাকে বিয়ে করেন। গনির আগের সংসারের ছেলে সাইফুলের একটি ছাগল কয়েক দিন আগে কুলছুমার রোপণ করা শিমগাছ খেয়ে ফেলে।

এ নিয়ে কুলছুমা প্রতিবাদ করলে সাইফুল ও তার বোনদের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি ও ঝগড়া হয়। অভিযোগ করা হয়েছে, একপর্যায়ে সৎ ছেলে সাইফুল ও তার বোনেরা মিলে কুলছুমার শরীরে ফুটন্ত গরম পানি ঢেলে দেন।

এতে কুলছুমার পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে ঝলসে যায়। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ঘটনা গোপন রাখার অভিযোগ

অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর বিষয়টি পুলিশ বা স্থানীয়দের না জানিয়ে গোপন রাখার চেষ্টা করা হয়। গোপনে চিকিৎসা করানোর কথা বলে প্রথমে ৫ হাজার টাকা দেওয়া হয় এবং পরে আরও ২০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে প্রতিশ্রুত টাকা না দেওয়া এবং কুলছুমার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটার পর বিষয়টি জানাজানি হয়।

গ্রেপ্তার ২, আদালতে সোপর্দ

চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান জানান, ঘটনার কয়েকদিন পার হলেও বিষয়টি পুলিশকে না জানিয়ে গোপন রাখা হয়েছিল। খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে নাজমা ও আকলিমাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা ছয়জনকে এজাহারভুক্ত আসামি করে মামলা করেছেন। বুধবার দুপুরে গ্রেপ্তার দুই নারীকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য অভিযুক্তদের বিষয়ে তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: