odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Thursday, 10th September 2026, ১০th September ২০২৬
জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে জ্বালানি সংকটের কারণ তুলে ধরে তা মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট দ্রুত কাটবে, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে যাবে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

odhikarpatra | প্রকাশিত: ১০ September ২০২৬ ২৩:০০

odhikarpatra
প্রকাশিত: ১০ September ২০২৬ ২৩:০০

অধিকারপত্র ডটকম 

সংসদ ভবন, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬: দেশে চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট দ্রুত মোকাবিলায় সরকার একাধিক তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে বাংলাদেশকে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশে পরিণত করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সৌরবিদ্যুতের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এতদিন বাংলাদেশ আমদানি নির্ভর উৎস থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের গ্রাহক ছিল। সরকারের পরিকল্পনা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশ শুধু বিদ্যুতের গ্রাহক থাকবে না, বরং সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশেও পরিণত হবে।

চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি না করে জনগণের সামনে প্রকৃত পরিস্থিতি তুলে ধরতে বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিএনপির অতীত ঐতিহ্য রয়েছে সংকটময় পরিস্থিতি থেকে দেশকে বের করে আনার। বিরোধী দলের সহযোগিতায় দ্রুত সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ সমস্যা হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উত্তোলনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বঙ্গোপসাগরে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের ক্ষেত্রেও দীর্ঘদিন কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন সরকার গঠনের মাত্র ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়। বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানির প্রধান উৎস হওয়ায় এর প্রভাব গ্যাস ও তেল সরবরাহে পড়ে। একই সময়ে দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ) একটিতে বৈদ্যুতিক ত্রুটিজনিত দুর্ঘটনায় সেটি বিকল হয়ে যায়। এসব কারণে বিদ্যমান পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে বলে জানান তিনি।

২০২২ সালের বিদ্যুৎ সংকটের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর বিদ্যুতের ঘাটতি মোকাবিলায় তৎকালীন সরকার অফিস ও ব্যাংক লেনদেনের সময় পরিবর্তন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত ছুটি দিতে বাধ্য হয়েছিল। কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাধ্যমে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়া হলেও বিদ্যুৎ সংকটের স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে মানুষের আত্মত্যাগ ও আহত হওয়ার মধ্য দিয়ে অর্জিত গণতান্ত্রিক পরিবেশে সংকটকে কেন্দ্র করে উসকানিমূলক আচরণ করলে এর সুবিধা পাবে পতিত ও বিতাড়িত ফ্যাসিবাদী চক্র। তাই সরকার ও বিরোধী দল—উভয় পক্ষকেই জনগণের কাছে বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি অতীতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার সময় বিভিন্ন সংকট থেকে দেশকে বের করে এনেছে। জিয়াউর রহমানের নীতি ও দলের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বিরোধী দলের সহযোগিতায় দ্রুত গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিকেল ৩টায় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। মাগরিবের নামাজের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদ অধিবেশন সমাপ্তি সংক্রান্ত রাষ্ট্রপতির আদেশ পড়ে শোনান।

সংসদের রেওয়াজ অনুযায়ী সমাপনী বক্তব্যে প্রথমে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান এবং পরে সংসদ নেতা বক্তব্য দেন। প্রধানমন্ত্রী সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে তাঁর বক্তব্য শুরু করেন।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: