odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Friday, 11th September 2026, ১১th September ২০২৬

আত্মহত্যা প্রতিরোধে টিএসসিতে মোমবাতি প্রজ্বালন

odhikarpatra | প্রকাশিত: ১০ September ২০২৬ ২৩:৪৪

odhikarpatra
প্রকাশিত: ১০ September ২০২৬ ২৩:৪৪

আত্মহত্যা প্রতিরোধে টিএসসিতে মোমবাতি প্রজ্বালন

সচেতনতা বাড়ানো, সহমর্মিতা ও সহজলভ্য মানসিক স্বাস্থ্যসেবার ওপর জোর

অধিকার সংযুক্ত নিউজ

আত্মহত্যা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) প্রাঙ্গণে মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আত্মহত্যার চেষ্টা করা ব্যক্তি সাধারণত গভীর মানসিক সংকট ও তীব্র কষ্টের মধ্য দিয়ে যান। এ সময় তাকে চিকিৎসা, নিরাপত্তা, সহায়তা ও সহমর্মিতা দেওয়া জরুরি।

বক্তারা বলেন, সংকটে থাকা একজন মানুষের সঙ্গে সহমর্মিতার সঙ্গে কথা বলা, সময়মতো সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া এবং পেশাদার মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরি করা গেলে তাকে সংকট থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এ জন্য পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সর্বস্তরে আত্মহত্যা প্রতিরোধ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে।

যৌথভাবে কর্মসূচিটির আয়োজন করে ইনোভেশন ফর ওয়েলবিয়িং ফাউন্ডেশন (আইডব্লিউএফ), টিএসসি স্টুডেন্ট গাইডেন্স কার্যালয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের নাসিরুল্লাহ সাইকোথেরাপি ইউনিট।

অনুষ্ঠানে পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য তুলে ধরে আয়োজকেরা জানান, ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশে ৭৬ হাজার ৩৬১ জন আত্মহত্যা করেছেন। সে হিসাবে প্রতিবছর গড়ে ১৫ হাজারের বেশি মানুষ আত্মহত্যায় প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশ ১৩ হাজার ৪৯১টি আত্মহত্যার ঘটনা নথিভুক্ত করেছে বলে জানানো হয়।

এদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের বরাতে অনুষ্ঠানে বলা হয়, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দেশে ১ হাজার ২২৬ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। ২০২৬ সালের ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরবর্তী কয়েক দিনেও দেশের বিভিন্ন স্থানে কয়েকজন শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার খবর প্রকাশিত হয়েছে বলে জানানো হয়।

বক্তারা দেশে সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও মানসম্মত মানসিক স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি রয়েছে বলে উল্লেখ করেন। তারা পরিবার ও সমাজে এমন সহমর্মিতাপূর্ণ পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন, যেখানে মানুষ ভয়, লজ্জা বা সমালোচনার আশঙ্কা ছাড়াই নিজের মানসিক কষ্টের কথা বলতে পারেন।

একই সঙ্গে আত্মহত্যার ঝুঁকি কমাতে প্রাণঘাতী উপকরণের সহজলভ্যতা সীমিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তারা।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ও নাসিরুল্লাহ সাইকোথেরাপি ইউনিটের প্রকল্প পরিচালক কামাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, এডুকেশনাল অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক মেহজাবিন হক, গ্লোবাল সেন্টার অব এক্সিলেন্সের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মাহমুদা রহমান খান, ইনোভেশন ফর ওয়েলবিয়িং ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মনিরা রহমান এবং জিরো মিসিং চিলড্রেন ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. সাদাত রহমানসহ অনেকে।

সূত্র: প্রথম আলো



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: