অধিকার পত্র ডটকম আন্তর্জাতিক ডেক্স:
সুদানের পশ্চিমাঞ্চলীয় দারফুর অঞ্চলে বিদ্যমান অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও এক মাস বাড়িয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। একই সঙ্গে পুরো সুদানে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারণের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যই প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন। এর ফলে দারফুরে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা আপাতত বহাল থাকছে এবং নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থায় সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে আলোচনার জন্য আরও সময় পাওয়া গেল।
জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত জেফ বার্টোস এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বর্তমান নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থা ২০ বছরেরও বেশি পুরোনো এবং চলমান যুদ্ধের বাস্তবতা মোকাবিলায় তা যথেষ্ট নয়।
যুক্তরাষ্ট্র সুদানের পুরো ভূখণ্ডে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারণের প্রস্তাব দিয়েছে। দেশটির দাবি, এর মাধ্যমে সুদানের সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাত বন্ধে চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে।
বার্টোস নিরাপত্তা পরিষদকে নিষেধাজ্ঞার আওতা বাড়ানোর পাশাপাশি সংঘাত-সংশ্লিষ্ট যৌন সহিংসতা, মুক্তিপণের জন্য অপহরণ এবং মানবিক সহায়তাকর্মীদের ওপর হামলার মতো কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা আরোপের তালিকা সম্প্রসারণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বিশেষজ্ঞ প্যানেলের কার্যকারিতা ও ম্যান্ডেট শক্তিশালী করার কথাও বলেন তিনি।
২০০৩ সালে দারফুরে বিদ্রোহীদের সঙ্গে তৎকালীন ওমর আল-বশির সরকারের সংঘাতের পর ওই অঞ্চলে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে নিরাপত্তা পরিষদ। ওই সময় সরকারপন্থি মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড ও ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ওই সংঘাতে প্রায় ৩ লাখ মানুষ নিহত এবং ২৭ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিল।
তবে রাশিয়া সুদানের সরকারের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রেখে দেশজুড়ে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারণের বিরোধিতা করেছে। রাশিয়ার উপ-জাতিসংঘ রাষ্ট্রদূত আনা এভস্তিগনিভা বলেন, নিষেধাজ্ঞার পরিধি বাড়ানোর কোনো উদ্যোগ তারা মেনে নেবে না।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, যখন সুদানের সরকারি বাহিনী বর্তমানে মাটিতে সামরিকভাবে এগিয়ে রয়েছে, তখন যুক্তরাষ্ট্র কেন অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারণ করতে চাইছে।
জাতিসংঘে সুদানের রাষ্ট্রদূত আল-হারিথ মোহাম্মদও পুরো দেশে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেন। তাঁর দাবি, দেশজুড়ে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা জাতিসংঘ সনদে স্বীকৃত আত্মরক্ষার অধিকার এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর অস্ত্র উৎপাদন ও সংগ্রহের অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। এতে অন্তত ৫৯ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে বলে বিভিন্ন হিসাব উল্লেখ করা হয়েছে। প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং দেশটির বিভিন্ন এলাকায় দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। চলমান সংঘাতকে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা, এপি ও আনাদোলু
সুদানে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা এক মাস বাড়াল জাতিসংঘ
: দারফুরে সুদানের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরও এক মাস বাড়িয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। পুরো দেশে নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারণ নিয়ে চলছে আলোচনা।
#সুদান #দারফুর #জাতিসংঘ #অস্ত্রনিষেধাজ্ঞা #সুদানযুদ্ধ #অধিকার

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: