odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Monday, 21st September 2026, ২১st September ২০২৬
কুমিল্লায় ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার তিন আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন

কুমিল্লায় অপ্রতীম হত্যা: আদালতে তিন আসামির স্বীকারোক্তি

odhikarpatra | প্রকাশিত: ২১ September ২০২৬ ০২:০৩

odhikarpatra
প্রকাশিত: ২১ September ২০২৬ ০২:০৩

অধিকার পত্র ডটকম, কুমিল্লা প্রতিবেদক,

কুমিল্লায় ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীম (১৩) হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার তিন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৬ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক আবিদা সুলতানা মলির আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাদের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়।

পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিন আসামিকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। বিষয়টি রাত ১০টা ১৫ মিনিটে নিশ্চিত করেন কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান।

পুলিশ জানায়, রোববার বেলা ৩টার দিকে তিন আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। তারা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হলে বিচারক তাদের জবানবন্দি গ্রহণ করেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জবানবন্দিতে তারা অপ্রতীমকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিনের বয়স ১৯ বছর। তার বাড়ি কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার সানন্দা (মৈশান বাড়ি) এলাকায়। তিনি কুমিল্লা সিটি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়ার সময় ২০২৫ সালে পড়াশোনা ছেড়ে দেন। পুলিশ তাকে মামলার প্রধান আসামি ও হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা হিসেবে উল্লেখ করেছে।

অপর দুজন অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোর। তাদের বয়স ১৫ ও ১৬ বছর। একজন নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

পুলিশের তথ্যমতে, অপ্রতীমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় inicialmente আসামিদের নাম অজ্ঞাত রাখা হয়। পরে তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, অপ্রতীমের মায়ের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে পরিকল্পিতভাবে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে পুলিশের তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। সেখানে ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার সময় বাধা দিলে বাঁশের লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়। এতে তার মৃত্যু হয় বলে পুলিশ জানায়।

পুলিশ আরও জানায়, তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার রাতে অপ্রতীমের ব্যবহৃত আইফোন তার বাসার খাটের তোশকের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অপ্রতীম নিখোঁজ হওয়ার পর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তুহিনকে শনাক্ত করা হয়। মরদেহ উদ্ধারের পর তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যাকাণ্ডে আরও দুজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। পরে তাদেরও আটক করা হয়।

আদালতে তিন আসামির জবানবন্দির পর মামলার তদন্তে তাদের বক্তব্যসহ অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

গত শুক্রবার কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতীম। পরদিন শনিবার দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। অপ্রতীম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।