odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Thursday, 1st October 2026, ১st October ২০২৬
৪৯তম বিসিএস বিশেষ পরীক্ষা-২০২৫-এ সুপারিশপ্রাপ্তদের সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে নিয়োগ; থাকছে প্রশিক্ষণ, শিক্ষানবীশকাল ও সম্পদের হিসাব দেওয়ার শর্ত

৪৯তম বিসিএসে ৬১১ জনকে নিয়োগ, যোগদানের শেষ সময় ১২ অক্টোবর

odhikarpatra | প্রকাশিত: ৩০ September ২০২৬ ২৩:৫৬

odhikarpatra
প্রকাশিত: ৩০ September ২০২৬ ২৩:৫৬

অধিকার পত্র ডটকম | ঢাকা | ৩০ সেপ্টেম্বর  ২

৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষা-২০২৫-এ সুপারিশপ্রাপ্ত ৬১১ জন প্রার্থীকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

৩০ সেপ্টেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বরের সুপারিশের ভিত্তিতে এসব প্রার্থীকে জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী নির্ধারিত শর্তে সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের প্রবেশ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

১২ অক্টোবরের মধ্যে যোগদান

নিয়োগপ্রাপ্তদের আগামী ১২ অক্টোবরের মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্ধারিত কার্যালয়ে যোগ দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান না করলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী চাকরিতে যোগদানে সম্মত নন বলে গণ্য হবেন এবং তার নিয়োগপত্র বাতিল হবে।

নিয়োগপ্রাপ্তদের বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র অথবা সরকার নির্ধারিত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ নিতে হবে। পরে চাকরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে পেশাগত ও বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে।

দুই বছর শিক্ষানবীশকাল

নিয়োগপ্রাপ্তদের দুই বছর শিক্ষানবীশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। প্রয়োজন হলে সরকার এই সময়সীমা সর্বোচ্চ আরও দুই বছর বাড়াতে পারবে।

শিক্ষানবীশকালীন কোনো প্রার্থীকে চাকরিতে বহাল থাকার অনুপযোগী মনে হলে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ ছাড়াই তাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা যাবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বুনিয়াদি ও পেশাগত প্রশিক্ষণ সফলভাবে শেষ করা, বিভাগীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া এবং শিক্ষানবীশকাল সন্তোষজনকভাবে সম্পন্ন করার পর সংশ্লিষ্টদের চাকরিতে স্থায়ী করা হবে।

চাকরি ছাড়লে ফেরত দিতে হবে প্রশিক্ষণের খরচ

প্রশিক্ষণে যাওয়ার আগে নিয়োগপ্রাপ্তদের কর্মস্থল থেকে অব্যাহতি প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের কাছে অঙ্গীকারনামা দিতে হবে। একই সঙ্গে একজন জামিনদারসহ ৩০০ টাকা মূল্যের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে বন্ড দিতে হবে।

শিক্ষানবীশকালীন সময়ে অথবা শিক্ষানবীশকাল শেষ হওয়ার পরবর্তী তিন বছরের মধ্যে চাকরি থেকে ইস্তফা দিলে প্রশিক্ষণকালীন বেতন-ভাতা, প্রশিক্ষণের জন্য নেওয়া অগ্রিম, ভ্রমণভাতা ও অন্যান্য অর্থসহ প্রশিক্ষণের পেছনে সরকারের ব্যয় করা অর্থ ফেরত দিতে হবে।

যৌতুক না নেওয়ার অঙ্গীকার

চাকরিতে যোগদানের সময় আরও একটি ৩০০ টাকা মূল্যের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে বন্ড দিতে হবে। এতে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিজে বা পরিবারের কোনো সদস্য যৌতুক গ্রহণ কিংবা প্রদান করবেন না—এ মর্মে অঙ্গীকার করতে হবে।

এ ছাড়া কোনো নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি বিদেশি নাগরিককে বিয়ে করে থাকলে অথবা বিয়ের জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ থাকলে তার নিয়োগপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে।

নিয়োগের পর কোনো কর্মকর্তার বিষয়ে বিরূপ বা ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় সংশোধন বা নিয়োগ বাতিলের অধিকারও কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করেছে।

সম্পদের হিসাব দিতে হবে

সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ১৩(১) উপবিধি অনুযায়ী, নিয়োগপ্রাপ্তদের নিজেদের এবং পরিবারের সদস্যদের মালিকানাধীন বা দখলে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির বিবরণসংবলিত ঘোষণাপত্র চাকরিতে যোগদানের সময় সংশ্লিষ্ট ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে।

এ ছাড়া একই বিধিমালার ১৩(২) উপবিধি অনুযায়ী, প্রতি পাঁচ বছর পর ডিসেম্বর মাসে সম্পত্তির মূল্য বৃদ্ধির হিসাবসহ বিবরণী যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে।

কোন বিষয়ে কতজন নিয়োগ

প্রজ্ঞাপন বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি প্রার্থী নিয়োগ পেয়েছেন বাংলা বিভাগে ৬১ জন। এরপর রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ৪৯, ইংরেজিতে ৪৪, অর্থনীতিতে ৩৬, ব্যবস্থাপনায় ৩১, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে ৩০ এবং গণিতে ৩০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বিষয়ভিত্তিক নিয়োগের উল্লেখযোগ্য সংখ্যা হলো—

  • বাংলা — ৬১ জন
  • রাষ্ট্রবিজ্ঞান — ৪৯ জন
  • ইংরেজি — ৪৪ জন
  • অর্থনীতি — ৩৬ জন
  • ব্যবস্থাপনা — ৩১ জন
  • ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি — ৩০ জন
  • গণিত — ৩০ জন
  • রসায়ন — ২৯ জন
  • দর্শন — ২৭ জন
  • ইতিহাস — ২৭ জন
  • হিসাববিজ্ঞান — ২৬ জন
  • তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি — ২৪ জন
  • সমাজকল্যাণ — ২২ জন
  • পদার্থবিদ্যা — ২২ জন
  • উদ্ভিদবিদ্যা — ২২ জন
  • ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং — ১৭ জন
  • সমাজবিজ্ঞান — ১৫ জন
  • ভূগোল — ১৫ জন
  • প্রাণিবিদ্যা — ১২ জন
  • পরিসংখ্যান — ১২ জন
  • ইসলাম শিক্ষা — ১১ জন
  • মার্কেটিং — ১০ জন
  • মনোবিজ্ঞান — ৯ জন
  • গার্হস্থ্য অর্থনীতি — ৬ জন
  • কৃষিবিজ্ঞান — ৪ জন
  • সংস্কৃত — ৩ জন
  • খাদ্য ও পুষ্টি — ২ জন