odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Friday, 16th October 2026, ১৬th October ২০২৬
কুমিল্লায় মাহাবুবুর রহমানের গাড়ি ভাঙচুরের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সাংগঠনিক ব্যবস্থা; অভিযোগ অস্বীকার সামদানির, তদন্তে পুলিশ

জামায়াত নেতার গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে এবি পার্টির নেতা সামদানি সাময়িক অব্যাহতি

odhikarpatra | প্রকাশিত: ১৬ October ২০২৬ ০৪:২৭

odhikarpatra
প্রকাশিত: ১৬ October ২০২৬ ০৪:২৭

অধিকার পত্র ডটকম | 

কুমিল্লা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাহাবুবুর রহমানের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় নাম আসার পর আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) কুমিল্লা মহানগর শাখার আহ্বায়ক গোলাম মোহাম্মদ সামদানিকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দিয়েছে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি। একই সঙ্গে তাঁকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না কেন, সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তবে গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সামদানি। অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্তের চেষ্টা করছে পুলিশ। ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি বলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত

স্থানীয় সূত্র ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের রোকন সম্মেলনের প্রস্তুতি সভা চলাকালে দলীয় কার্যালয়ের সামনে রাখা মাহাবুবুর রহমানের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সভায় কমিটি গঠন নিয়ে উত্তেজনা ও হট্টগোলের খবর পাওয়া যায়।

পরদিন বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় ৩৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে টুপি ও মুখে মাস্ক পরা এক ব্যক্তিকে লাঠি দিয়ে গাড়ির বিভিন্ন পাশের কাচ ভাঙতে দেখা যায়। এ সময় কয়েকজন তাঁকে থামানোর চেষ্টা করলেও তিনি গাড়ির কাচ ভেঙে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় সামদানির নাম আলোচনায় আসে। তবে ভিডিওতে থাকা ব্যক্তির পরিচয় এবং ঘটনার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

সাংগঠনিক ব্যবস্থা এবি পার্টির

এবি পার্টির কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন রানার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সামদানিকে তাঁর পদ থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না কেন, সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত কুমিল্লা মহানগর শাখার দায়িত্ব পালনে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক নির্ধারণের কথাও জানানো হয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার সামদানির

বৃহস্পতিবার রাতে সমকালকে সামদানি বলেন, ঘটনার দিন বুধবার সন্ধ্যায় তাঁর বাবা মাহাবুবুর রহমান ভূঁইয়া স্ট্রোক করলে তাঁকে কুমিল্লা নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। বাবার চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজে তিনি গভীর রাত পর্যন্ত হাসপাতালে ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

হাসপাতালের সিসিটিভি ক্যামেরায় তাঁর উপস্থিতির প্রমাণ রয়েছে বলেও জানান সামদানি। তাঁর ভাষ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি তিনি নন। পুলিশ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে তিনি মনে করেন।

পুলিশের বক্তব্য

কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. লুৎফর রহমান সমকালকে বলেন, গাড়ি ভাঙচুরের একটি ভিডিও পুলিশের নজরে এসেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তখন পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি।

সাংগঠনিক বিরোধের বিষয়টিও আলোচনায়

কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ বলেছেন, তাঁদের দলে সাংগঠনিকভাবে কোনো বিরোধ নেই, তবে পদ-পদবি নিয়ে মতবিরোধ থাকতে পারে। বুধবারের সভায় কথা-কাটাকাটি হয়েছিল বলে জানান তিনি। দলীয় কার্যালয়ের বাইরে একজন নেতার গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাকে দুঃখজনক উল্লেখ করে এ বিষয়ে সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের পর থানায় অভিযোগ দেওয়ার কথা জানান তিনি।

ঘটনাটির প্রকৃত কারণ, গাড়ি ভাঙচুরে জড়িত ব্যক্তির পরিচয় এবং এর পেছনে কোনো সাংগঠনিক বিরোধের ভূমিকা ছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে নেওয়া দলীয় সাময়িক ব্যবস্থা এবং অপরাধে জড়িত থাকার চূড়ান্ত প্রমাণ এক বিষয় নয়; তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না।