বিনোদন প্রতিবেদক | অধিকারপত্র ডটকম
ঢালিউডের আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমণি বলেছেন, জীবনে নানা ধরনের ঝামেলা মোকাবিলা করেই তাঁকে এগিয়ে যেতে হচ্ছে। তবে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে ঘিরে ছড়ানো ছবি ও নেতিবাচক মন্তব্যের বিষয়টি তাঁর কাছে বিশেষভাবে সংবেদনশীল। তাঁর মতে, এ ধরনের অনলাইন হয়রানি শুধু একজন নারীকে বিব্রত করে না, অন্য নারীর জন্যও মানসিক চাপের কারণ হতে পারে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্রকাশিত সমকালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে নিজের ব্যক্তিজীবন, পেশাগত অভিজ্ঞতা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়রানি এবং সহকর্মীদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সমর্থন নিয়ে কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী।
পরীমণি বলেন, “আমি এটা মেনে নিয়েছি যে, সারা জীবন আমার ঝামেলা হবে, আর ঝামেলা নিয়েই চলে যেতে হবে।” তবে সাম্প্রতিক ঘটনাটি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত চুপ থাকতে পারেননি বলে জানান তিনি।
‘এভাবে সব মেয়ে নিতে পারবে না’
পরীমণির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম দিকে তিনি কয়েক দিন বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু বিভিন্ন ছবি নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য অব্যাহত থাকায় তাঁকে নিজের অবস্থান জানাতে হয়েছে।
তিনি বলেন, একজন নারীকে নিয়ে জেনে-বুঝে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হলে তা গুরুতর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। সাধারণ কোনো নারী এমন পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়তে পারেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
এ ধরনের অনলাইন হয়রানির বিরুদ্ধে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পরীমণি। তাঁর মতে, কাউকে নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো কিংবা ছবি ব্যবহার করে অপমান করার প্রবণতা বন্ধে সম্মিলিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন।
সাইবার হয়রানি প্রতিরোধে আইনি সুরক্ষা চান
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়রানির ঘটনায় বিদ্যমান আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন পরীমণি। তাঁর অভিমত, এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে আইনি ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে হবে।
তিনি বলেন, একা তাঁর পক্ষে সবকিছু মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এ জন্য অন্যদের সমর্থন প্রয়োজন। অনলাইনে কাউকে হেনস্তা করা হলে তার প্রতিবাদ এবং ভুক্তভোগীর পাশে দাঁড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
সহকর্মীদের পাশে না পাওয়ার আক্ষেপ
কথোপকথনে সহকর্মীদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সমর্থন না পাওয়ার আক্ষেপও প্রকাশ করেন পরীমণি। তাঁর মতে, কোনো শিল্পী বিপদে পড়লে অন্য শিল্পীদের তাঁর পাশে দাঁড়ানো উচিত।
মাহিয়া মাহি ও নুসরাত ফারিয়ার গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গ টেনে পরীমণি জানান, তাঁদের গ্রেপ্তারের পর তিনি প্রথম দিকে এ বিষয়ে কথা বলেছিলেন। সহকর্মী হিসেবে তাঁদের পাশে থাকা নিজের দায়িত্ব মনে করেছিলেন বলেও জানান তিনি।
তবে নিজের বিপদের সময়ে একই ধরনের সমর্থন সব সময় পান না বলে মনে করেন এই অভিনেত্রী। তাঁর ভাষায়, সহকর্মীদের পারস্পরিক সহযোগিতা ছাড়া শিল্পীদের ঐক্যের কথা বলা কঠিন।
ধৈর্য ধরে নিজের কাজে মনোযোগ দিতে চান
নিজের ভক্ত ও অনুসারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে পরীমণি বলেন, সত্য কথা বলার সাহসকে মানুষ সমর্থন করলে নিজের অবস্থানে দৃঢ় থাকা সহজ হয়।
তবে সব পরিস্থিতি এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, ধৈর্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে প্রতিবাদ করাও প্রয়োজন।
জন্মদিন নিয়ে কী বললেন পরীমণি?
আসন্ন জন্মদিন নিয়েও কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী। তিনি জানান, আগে জন্মদিন উদ্যাপন নিয়ে তেমন আগ্রহী ছিলেন না। বিশেষ করে নানুভাইকে হারানোর পর তাঁকে ছাড়া কেক কাটা কিংবা আনন্দ আয়োজনের কথা ভাবতে কষ্ট হতো।
তবে এবার কাছের মানুষ ও সহকর্মীদের নিয়ে সন্ধ্যায় কিছুটা সময় কাটানোর ইচ্ছা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পরীমণি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়রানি, সহকর্মীদের পারস্পরিক সহযোগিতা এবং ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতা—সব মিলিয়ে অভিনেত্রীর বক্তব্যে উঠে এসেছে অনলাইনে নারীর প্রতি আচরণ ও ভুক্তভোগীর পাশে দাঁড়ানোর গুরুত্ব।
