odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Monday, 26th October 2026, ২৬th October ২০২৬
শহরকেন্দ্র ও স্কুলের আশপাশে সমাবেশে বিধিনিষেধ, কয়েকটি এলাকায় কারফিউ; প্রতিবাদের অধিকার খর্ব হওয়ার আশঙ্কা বিরোধীদের

ফ্রান্সে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে কঠোর ম্যাক্রোঁ সরকার, শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে আলোচনার উদ্যোগ

odhikarpatra | প্রকাশিত: ২৬ October ২০২৬ ১৮:৫৯

odhikarpatra
প্রকাশিত: ২৬ October ২০২৬ ১৮:৫৯

 

# ফ্রান্সে বিক্ষোভকারীদের ১০ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানার প্রস্তাব, প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে বিতর্ক

**উপশিরোনাম:** অন্যের ভাঙচুরের দায়েও বিক্ষোভকারীদের ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করার প্রস্তাব; সমালোচনায় মানবাধিকার সংগঠন ও বামপন্থী রাজনীতিকেরা

**আন্তর্জাতিক ডেস্ক | অধিকার পত্র ডটকম**

ফ্রান্সে বিক্ষোভের সময় ভাঙচুরের ঘটনায় ক্ষতিপূরণ আদায়ে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে কোনো বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের অন্যের করা ভাঙচুরের দায়েও সর্বোচ্চ ১০ হাজার ইউরো পর্যন্ত অর্থ দিতে বাধ্য করার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।

সমালোচকদের আশঙ্কা, এ ধরনের আইন শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদেরও আর্থিক ঝুঁকিতে ফেলবে এবং জনসমাবেশ ও প্রতিবাদের মৌলিক অধিকার সংকুচিত করবে। তবে আইনটির সমর্থকদের বক্তব্য, ভাঙচুর ও সহিংসতার দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন।

## মেরিন লে পেনের সমর্থন

ফ্রান্সের কট্টর ডানপন্থী ন্যাশনাল র‍্যালি (আরএন) দলের নেতা মেরিন লে পেন প্রস্তাবটির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। রোববার (২৫ অক্টোবর) ওর্লেয়াঁ শহরে নির্বাচনী সমাবেশে তিনি ফ্রান্সে আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন।

সমাবেশে লে পেন বলেন, ভাঙচুরকারীদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে; প্রয়োজন হলে তাঁদের সারা জীবন ধরে সেই অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

আগামী বসন্তে অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তার প্রশ্নকে সামনে এনে প্রচার চালাচ্ছেন তিনি। তবে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের তহবিল আত্মসাতের মামলায় তাঁর দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিলের বিষয়টিও রাজনৈতিক আলোচনায় রয়েছে।

## বিরোধীদের আশঙ্কা

বামপন্থী রাজনীতিক এরিক ককেরেল বলেছেন, প্রস্তাবিত আইন কার্যকর হলে মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিতে ভয় পেতে পারে। তাঁর আশঙ্কা, অন্য কারও ভাঙচুরের দায় নিজের ওপর আসার ঝুঁকি থাকলে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদেও অংশগ্রহণ কমে যাবে।

কমিউনিস্ট সিনেটর ফাবিয়াঁ গে-ও প্রস্তাবটির সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, এর ফলে ফ্রান্সে বিক্ষোভ আয়োজন কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

এদিকে বামপন্থী ট্রেড ইউনিয়ন ও ফ্রান্সের মানবাধিকার সংগঠন লিগ অব হিউম্যান রাইটস এক খোলা চিঠিতে প্রস্তাবিত আইন প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, আইনটি প্রতিবাদের স্বাধীনতার ওপর গুরুতর আঘাত হানতে পারে।

## রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে নতুন বিতর্ক

ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয়, জনসেবা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে নতুন এই প্রস্তাব এসেছে। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সরকার সহিংসতা ও লুটপাট ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

তবে সমালোচকদের প্রশ্ন, সহিংসতার দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে গিয়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের অধিকারও কি সীমিত হয়ে পড়বে?

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ বিতর্ক এখন ফ্রান্সের রাজনৈতিক অঙ্গনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং নাগরিক স্বাধীনতার ভারসাম্য নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।

**সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, ২৫ অক্টোবর ২০২৬।**

এসইও কীওয়ার্ড: ফ্রান্সের বিক্ষোভ, মেরিন লে পেন, ভাঙচুরের ক্ষতিপূরণ আইন, প্রতিবাদের অধিকার, ম্যাক্রোঁ সরকার।

হ্যাশট্যাগ: #France #MarineLePen #Protest #HumanRights #অধিকারপত্রডটকম

 

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | অধিকারপত্র ডটকম

ফ্রান্সে চলমান বিক্ষোভ ও সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সরকার। বিভিন্ন শহরে সমাবেশের ওপর বিধিনিষেধ, নির্দিষ্ট এলাকায় বিক্ষোভ নিষিদ্ধ এবং কিছু স্থানে কারফিউ জারির মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দাবি নিয়ে আলোচনার উদ্যোগও নিয়েছে সরকার।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের ২৫ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে রাজনৈতিক বিরোধী দল, ট্রেড ইউনিয়ন ও মানবাধিকারকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

শহরকেন্দ্রে বিক্ষোভে বিধিনিষেধ

ম্যাক্রোঁ সরকার জানিয়েছে, স্বীকৃত ট্রেড ইউনিয়নের আয়োজনে আইনসম্মত বিক্ষোভের সুযোগ রাখা হবে। তবে অন্য সংগঠন বা ব্যক্তিদের আয়োজিত কিছু সমাবেশ নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভের স্থান ও চলাচলের পথ সীমিত করা হয়েছে। কয়েকটি এলাকায় স্কুলের সামনে জমায়েতেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। কিছু স্থানে কারফিউ এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় পুলিশি হেফাজতে রাখার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকারের যুক্তি, লুটপাট ও সহিংসতা ঠেকাতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যদিকে সমালোচকেরা বলছেন, অতিরিক্ত বিধিনিষেধ শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের সুযোগও সংকুচিত করতে পারে।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকসংকট, ভবন ও অবকাঠামোর দুরবস্থা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিসংক্রান্ত সংস্কার নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ থেকে আন্দোলনের বিস্তার ঘটেছে বলে দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবরোধের ঘটনাও ঘটেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু সোমবার (২৬ অক্টোবর) আন্দোলনরত উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো সংস্কার, প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করা।

প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে উদ্বেগ

ফ্রান্সে রাজপথের বিক্ষোভ দীর্ঘদিন ধরে নাগরিকদের দাবি প্রকাশের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। পেনশন সংস্কার থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে দেশটিতে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে।

এবারের পরিস্থিতিতে সমালোচকেরা আশঙ্কা করছেন, বিক্ষোভের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ ভবিষ্যতে নাগরিক স্বাধীনতার পরিসর আরও সংকুচিত করতে পারে। আইন বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ সতর্ক করেছেন, জরুরি অবস্থা ঘোষণা না করেও ধারাবাহিক প্রশাসনিক বিধিনিষেধ জনস্বাধীনতার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

অন্যদিকে সরকার সহিংসতা ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

 সংকট সামাল দেওয়ার চ্যালেঞ্জ

ফ্রান্সের সরকারের সামনে এখন দুটি বড় চ্যালেঞ্জ—একদিকে জননিরাপত্তা ও সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ, অন্যদিকে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ এবং নাগরিক অধিকার সুরক্ষা। শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে আলোচনা কতটা কার্যকর হয় এবং বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া পদক্ষেপ পরিস্থিতি শান্ত করতে পারে কি না, তা এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

**সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, ২২ ও ২৫ অক্টোবর ২০২৬।**

এসইও কীওয়ার্ড: ফ্রান্সে বিক্ষোভ, ম্যাক্রোঁ সরকার, ফ্রান্সের শিক্ষার্থী আন্দোলন, প্যারিসে বিক্ষোভ নিষেধাজ্ঞা, প্রতিবাদের স্বাধীনতা।

হ্যাশট্যাগ: #FranceProtests #Macron #StudentProtests #Paris #অধিকারপত্রডটকম