odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Tuesday, 27th October 2026, ২৭th October ২০২৬
হুথিদের হামলা মোকাবিলায় সেনা সহায়তার ক্ষমতা পেলেন প্রেসিডেন্ট সিসি, তবে ইয়েমেনে সরাসরি হামলা না করার অবস্থানে কায়রো

সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তায় মিসরের পার্লামেন্টের অনুমোদন

odhikarpatra | প্রকাশিত: ২৭ October ২০২৬ ১৯:৪৭

odhikarpatra
প্রকাশিত: ২৭ October ২০২৬ ১৯:৪৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | অধিকারপত্র ডটকম

সৌদি আরবের ওপর ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলা জোরদার হওয়ার প্রেক্ষাপটে দেশটিকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে মিসরের পার্লামেন্ট। সোমবার (২৬ অক্টোবর) পার্লামেন্টের অনুমোদনের ফলে সৌদি আরবের অনুরোধ এলে দেশটির ভূখণ্ড ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সামরিক সহায়তার ব্যবস্থা নিতে পারবেন মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি।

আল জাজিরা ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিসরের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের স্পিকার হিশাম বাদাওয়ির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। পার্লামেন্টের বিবৃতিতে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিদেশে সামরিক অভিযানে সেনা পাঠানোর ক্ষেত্রে মিসরের সংবিধান অনুযায়ী আইনপ্রণেতাদের দুই-তৃতীয়াংশের অনুমোদন প্রয়োজন।

 সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা

সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হুথিদের হামলার ঘটনা দুই দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর স্থাপনা ঘিরে হামলা ও নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে বিমান চলাচল ও তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ দেশটির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকার নিয়ন্ত্রণে থাকা হুথিরা ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে, সৌদি আরব আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে।

 ইয়েমেনে হামলা নয়, প্রতিরক্ষায় সহায়তা

মিসরের সাবেক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুসেইন হারিদি আল জাজিরাকে বলেছেন, সৌদি আরবকে সহায়তার বিষয়ে কায়রোর অবস্থান মূলত প্রতিরক্ষামূলক। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদি ভূখণ্ড ও অবকাঠামোকে বহিরাগত হামলা থেকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়াই এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য।

প্রেসিডেন্ট সিসিও জানিয়েছেন, মিসরের সম্ভাব্য সামরিক ভূমিকা সৌদি আরবের ভূখণ্ড ও সীমান্ত রক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে; ইয়েমেনে হামলা চালানো এর উদ্দেশ্য নয়। মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক সমাধানের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন।

 লোহিত সাগর ও সুয়েজ খালের নিরাপত্তা

সৌদি আরবকে সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে মিসরের নিজস্ব অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থও রয়েছে। বাব আল-মান্দেব প্রণালি ও লোহিত সাগর দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সুয়েজ খালের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে মিসরের সুয়েজ খাল থেকে আয় এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন ইয়েমেন অভিযানে মিসর অংশ নিয়েছিল, মূলত নৌবাহিনীর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথের নিরাপত্তায় সহায়তা করে। তবে সাম্প্রতিক অনুমোদনের পর মিসর ঠিক কী ধরনের বাহিনী বা সরঞ্জাম পাঠাবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ঘোষণা পাওয়া যায়নি।

 আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা

মিসরের এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এসেছে, যখন সৌদি আরব ও হুথিদের সংঘর্ষের পাশাপাশি ইরানকে ঘিরেও আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে পার্লামেন্টের অনুমোদন মানেই মিসরের সেনা ইতোমধ্যে সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছে—এমন নয়। সৌদি আরবের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ, দুই দেশের সমন্বয় এবং সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে আরও তথ্য প্রয়োজন।

সূত্র:** আল জাজিরা ও রয়টার্স, ২৬ অক্টোবর ২০২৬।