odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Tuesday, 27th October 2026, ২৭th October ২০২৬
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর প্রথম সাধারণ নির্বাচনে নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোটের মুখোমুখি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধীরা

ইসরায়েলের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি বেশি, নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় থাকা নিয়ে অনিশ্চয়তা

odhikarpatra | প্রকাশিত: ২৭ October ২০২৬ ১৯:৫৯

odhikarpatra
প্রকাশিত: ২৭ October ২০২৬ ১৯:৫৯

### ইসরায়েলের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি বেশি, নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় থাকা নিয়ে অনিশ্চয়তা

অধিকার পত্র ডটকম | আন্তর্জাতিক

ইসরায়েলে গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ নির্বাচনে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন কট্টর ডানপন্থী জোটের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে এ নির্বাচনকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে হামলার পর এটিই দেশটির প্রথম সাধারণ নির্বাচন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিউইয়র্ক টাইমসের ২৭ অক্টোবর ২০২৬-এর লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় দুপুর পর্যন্ত ভোটগ্রহণ শুরুর পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭০-এর দশকের পর কোনো সাধারণ নির্বাচনে ওই সময় পর্যন্ত এটিই ছিল সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি।

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জবাবদিহির দাবি

নেতানিয়াহুর বিরোধীরা ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতার জন্য তাঁর সরকারের জবাবদিহি দাবি করছেন। সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বে বিরোধী শিবির ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার, পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি উগ্রপন্থিদের সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাব্যবস্থার ব্যর্থতা তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

অন্যদিকে, নেতানিয়াহু আবারও ক্ষমতায় ফিরতে চাইছেন। তাঁর জোটে জাতীয়তাবাদী ও অতি-গোঁড়া ইহুদি ধর্মীয় দলগুলো রয়েছে। জোটটি পশ্চিম তীর ও গাজায় ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করা এবং বিচারব্যবস্থায় সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার পক্ষে। সমালোচকদের আশঙ্কা, এসব পদক্ষেপ দেশটির গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করতে পারে।

 নির্বাচনে কারা গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বী?

1.বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু: ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী ও ডানপন্থী লিকুদ দলের নেতা।

2.গাদি আইজেনকট: সাবেক সেনাপ্রধান ও নেতানিয়াহুবিরোধী প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের একজন।

3. নাফতালি বেনেট: সাবেক প্রধানমন্ত্রী, যিনি নেতানিয়াহুবিরোধী রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

4.ইতামার বেন-গভির: কট্টর ডানপন্থী নেতা ও জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী।

ফল নির্ধারণে কেন জোট গঠন গুরুত্বপূর্ণ?

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে মোট আসন ১২০টি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসনের সমর্থন। নির্বাচনী জরিপগুলোতে নেতানিয়াহুর জোট ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ফলে কোনো পক্ষই সহজে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলে সরকার গঠনের আলোচনা কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কয়েক মাসও চলতে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে নেতানিয়াহুকে সমর্থন জানিয়েছেন। তবে তাঁর এই সমর্থন ভোটারদের সিদ্ধান্তে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের সংশয় রয়েছে।

 ফিলিস্তিনিদের জন্য কী অর্থ বহন করছে এই নির্বাচন?

ইসরায়েলের নির্বাচনে অধিকৃত পশ্চিম তীর ও গাজার ফিলিস্তিনিরা ভোট দিতে পারেন না। কিন্তু নির্বাচনের ফল তাঁদের জীবনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সামরিক বিধিনিষেধ, বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে দুই শিবিরের অবস্থান আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে নেতানিয়াহুর বিরোধী শিবির ক্ষমতায় এলেই ফিলিস্তিন নীতিতে মৌলিক পরিবর্তন ঘটবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

সর্বশেষ পরিস্থিতি: ২৭ অক্টোবরের লাইভ প্রতিবেদনে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার আগেই উচ্চ ভোটার উপস্থিতির তথ্য পাওয়া গেছে। তবে ভোটের এই হার থেকে এককভাবে বিজয়ী নির্ধারণ করা যায় না। চূড়ান্ত ফল এবং পরবর্তী জোট গঠনের আলোচনা থেকেই স্পষ্ট হবে নেতানিয়াহু ক্ষমতায় থাকছেন, নাকি ইসরায়েলে নতুন সরকার গঠিত হচ্ছে।

 

 

ইসরায়েলের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত? গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ নির্বাচনে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে। নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় থাকা, ৭ অক্টোবরের হামলার জবাবদিহি, গাজার ভবিষ্যৎ এবং পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি—সবকিছুই এবারের নির্বাচনের ফলের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা কে অর্জন করবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

 #ইসরায়েল #ইসরায়েলনির্বাচন #বেনিয়ামিননেতানিয়াহু #গাদিআইজেনকট #ফিলিস্তিন #গাজা #মধ্যপ্রাচ্য #আন্তর্জাতিকসংবাদ #অধিকারপত্রডটকম