বিনোদন ডেস্ক | অধিকার পত্র ডটকম
মায়ের স্নেহের ছায়া হারানো যে কতটা বেদনাদায়ক, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। জীবনের নানা অর্জন, পরিচিতি কিংবা মানুষের ভালোবাসা—সবকিছুর ঊর্ধ্বে সন্তানের কাছে মায়ের স্থান আলাদা। সেই মাকেই হারালেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের একসময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা সাদিকা পারভীন পপি। তাঁর মা মরিয়ম বেগম আর নেই। মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর মগবাজারের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর।
মরিয়ম বেগমের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন চলচ্চিত্র পরিচালক বদিউল আলম খোকন। বুধবার, ২৮ অক্টোবর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে। প্রিয়জনকে হারানোর এই সংবাদে চলচ্চিত্র অঙ্গনেও শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।
দীর্ঘ অসুস্থতার পর থেমে গেল জীবনের পথচলা
পরিবার ও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মরিয়ম বেগম দীর্ঘদিন ধরে কিডনির জটিলতা ও বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। গত ১৪ অক্টোবর রাজধানীর গুলশানের নিকেতনে নিজের বাসায় স্ট্রোক করলে তাঁকে দ্রুত মগবাজারের ইনসাফ বারাকাহ কিডনি অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। মঙ্গলবার রাতে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু সেই প্রস্তুতির মধ্যেই রাত দেড়টার দিকে মৃত্যুর কাছে হার মানেন তিনি।
দীর্ঘ অসুস্থতার পর একজন মায়ের এই বিদায় তাঁর স্বজনদের জন্য কতটা কঠিন, তা সহজেই অনুমেয়। তবে শোকের এই সময়ে পপি নিজে কী অনুভব করছেন, সে বিষয়ে তাঁর সরাসরি কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাই তাঁর ব্যক্তিগত অনুভূতি নিয়ে অনুমান না করে বলা যায়, পরিবারের জন্য এটি এক অপূরণীয় ক্ষতি।
ঢাকায় জানাজা, শেষ ঠিকানা খুলনায়
প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, বুধবার ভোরে রাজধানীর নিকেতনের একটি মসজিদে মরিয়ম বেগমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাঁর মরদেহ খুলনায় গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফনের কথা জানানো হয়।
ঢাকার ব্যস্ত নগরজীবন থেকে খুলনার পারিবারিক ঠিকানা—শেষ বিদায়ের এই যাত্রায় এক মায়ের জীবনের অধ্যায় শেষ হলো। তাঁর পরিবার ও স্বজনদের জন্য রইল গভীর সমবেদনা।
পপির দীর্ঘ ক্যারিয়ার, আড়ালে থাকা জীবন
একসময় ঢাকাই চলচ্চিত্রে নিয়মিত অভিনয় করে দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন সাদিকা পারভীন পপি। মডেলিংয়ের মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়ার পর ১৯৯৭ সালে চলচ্চিত্রে তাঁর যাত্রা শুরু হয়। ‘কুলি’সহ বিভিন্ন চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর সম্মান পেয়েছেন।
তবে দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে চলচ্চিত্রের নিয়মিত কর্মকাণ্ডে দেখা যায় না। ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও তিনি অনেকটাই আড়ালে রয়েছেন। তাঁর এই নীরবতার মধ্যে মায়ের মৃত্যুর খবর সামনে আসায় ভক্তদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই শোক ও সহমর্মিতার অনুভূতি তৈরি হয়েছে।
‘আম্মা’ বলে স্মরণ করলেন ওমর সানী
মরিয়ম বেগমের মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন চিত্রনায়ক ওমর সানী। পপি ও মৌসুমীর পারিবারিক সম্পর্কের সূত্র উল্লেখ করে তিনি মরিয়ম বেগমকে নিজের শাশুড়ি হিসেবে স্মরণ করেন। ওমর সানী জানান, ১৯৯৭ সাল থেকে তিনি তাঁকে ‘আম্মা’ বলে ডাকতেন। তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে জান্নাতের জন্য দোয়া করেন এই অভিনেতা।
ওমর সানীর এই স্মরণে উঠে এসেছে দীর্ঘদিনের পারিবারিক স্নেহ ও আন্তরিকতার কথা। একজন মানুষ চলে যাওয়ার পর তাঁর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সম্পর্ক, স্মৃতি ও ভালোবাসাই যে স্বজনদের কাছে সবচেয়ে মূল্যবান হয়ে থাকে, এমন শোকবার্তা যেন সেই কথাই মনে করিয়ে দেয়।
মায়ের বিদায়ে অপূরণীয় শূন্যতা
মা কেবল একটি সম্পর্কের নাম নয়; মা সন্তানের শৈশবের আশ্রয়, জীবনের প্রথম ভরসা এবং কঠিন সময়ে ফিরে যাওয়ার এক আপন ঠিকানা। সেই মানুষটি চলে গেলে জীবনের পরিচিত অনেক কিছুই যেন নতুন করে অনুভব করতে হয়।
চিত্রনায়িকা পপির ব্যক্তিগত শোকের গভীরতা সম্পর্কে বাইরে থেকে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু মাকে হারানোর বেদনা যে কোনো সন্তানের জীবনেই এক গভীর শূন্যতা তৈরি করতে পারে।
অধিকার পত্র ডটকমের পক্ষ থেকে মরহুমা মরিয়ম বেগমের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই কঠিন সময় সহ্য করার শক্তি দিন।
**ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।**
মাকে হারালেন চিত্রনায়িকা পপি, শেষ বিদায়ে শোকাহত স্বজনরা
* #সাদিকা_পারভীন_পপি #মরিয়ম_বেগম #পপির_মা #শোকসংবাদ #ঢালিউড #বিনোদন_সংবাদ #অধিকারপত্র_ডটকম
