odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Wednesday, 28th October 2026, ২৮th October ২০২৬
আরব অধ্যুষিত এলাকার ভোটকেন্দ্রে জালিয়াতির আশঙ্কা দেখিয়ে ফল চ্যালেঞ্জের পরিকল্পনার অভিযোগ; ব্যাপক নির্বাচনী কারচুপির প্রমাণ নেই বলছে নির্বাচন কমিশন

নেতানিয়াহু হারলে নির্বাচন ‘চুরি’র অভিযোগ তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে লিকুদ:

odhikarpatra | প্রকাশিত: ২৮ October ২০২৬ ০১:৫০

odhikarpatra
প্রকাশিত: ২৮ October ২০২৬ ০১:৫০

অধিকারপত্র ডটকম | আন্তর্জাতিক

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টি নির্বাচনে পরাজিত হলে ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে ফলাফল চ্যালেঞ্জ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে *দ্য টাইমস অব ইসরায়েল*। পত্রিকাটির ২৭ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরব অধ্যুষিত শহর ও জনপদের ভোটকেন্দ্রগুলোতে সম্ভাব্য জালিয়াতির অভিযোগ তোলার বিষয়ে দলটির কয়েকজন নেতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে বিভিন্ন ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ এবং দৈনিক *হারেৎজ*-এর খবরে বলা হয়েছে, নির্বাচনে নেতানিয়াহু পরাজিত হলে ভোটের ফলাফল নিয়ে আপত্তি তোলার সম্ভাবনা বিবেচনায় রেখেছে লিকুদ পার্টির কিছু নেতা। এমন পরিস্থিতিতে আরব অধ্যুষিত এলাকার কয়েকটি ভোটকেন্দ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রস্তুত করার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 আরব অধ্যুষিত ভোটকেন্দ্র নিয়ে অভিযোগের প্রস্তুতি

*টাইমস অব ইসরায়েল*-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরব অধ্যুষিত এলাকার ভোটকেন্দ্র পর্যবেক্ষণের জন্য লিকুদ পার্টি ও কট্টর ডানপন্থী রিলিজিয়াস জায়নিজম পার্টির পক্ষ থেকে প্রায় দুই হাজার দলীয় কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনার কথা আগেই প্রকাশ করা হয়েছিল। এ উদ্যোগ নিয়ে নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মুখ পুরোপুরি ঢাকা পোশাকে ভোট দিতে আসা নারীদের পরিচয় এবং নারী-পুরুষের জন্য আলাদা সময়ে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থার মতো বিষয়কে কেন্দ্র করে আপত্তি তোলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রের বরাতে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তবে এসব বিষয় নির্বাচনী বিধিমালার আওতায় কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়েও আলোচনা রয়েছে।

হারেৎজ -এর বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র নির্বাচনে পরাজয়ের পরিস্থিতি মোকাবিলায় কয়েক দফা আলোচনা হওয়ার কথা জানিয়েছে। ওই সূত্রের দাবি, আলোচনায় নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে ফলাফলকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পক্ষে মত দেওয়া হয়েছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব আলোচনা নেতানিয়াহু নিজে পরিচালনা করেছেন—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি; তবে তিনি ফল চ্যালেঞ্জ করার বিকল্প বিবেচনা করছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

 নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির প্রমাণ নেই: নির্বাচন কমিশন

অন্যদিকে, ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের মহাপরিচালক দিন লিভনে বলেছেন, দেশটির নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতির কোনো প্রমাণ নেই এবং বিদ্যমান নিরাপত্তাব্যবস্থা ও বিধিমালা নির্বাচনের স্বচ্ছতা রক্ষায় যথেষ্ট।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দলীয় কর্মীদের ভোটকেন্দ্রে পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়ে নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলো প্রশ্ন তুলেছে। তাদের উদ্বেগ, এসব কর্মীর আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী দায়িত্ব বা ভোটারদের পরিচয় যাচাই করার ক্ষমতা নেই। ভোটকেন্দ্রে কারা উপস্থিত থাকতে পারবেন এবং তাঁদের ক্ষমতার সীমা কী—তা আইন ও নির্বাচনবিধিতে নির্ধারিত রয়েছে।

এদিকে ইসরায়েলের ‘মুভমেন্ট ফর কোয়ালিটি গভর্নমেন্ট’ নামের একটি পর্যবেক্ষক সংগঠন নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ কর্তৃপক্ষকে জানাতে হটলাইন চালুর ঘোষণা দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 ফলাফল নিয়ে বিতর্কের আশঙ্কা

নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর তা চ্যালেঞ্জ করার সম্ভাবনা নিয়ে এই প্রতিবেদন ইসরায়েলের নির্বাচনী পরিবেশে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। তবে লিকুদ পার্টি নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ আনবে—এটি এখনো প্রতিবেদনে উল্লিখিত সূত্রের দাবি ও সম্ভাব্য পরিকল্পনা; নির্বাচনে প্রকৃত অনিয়ম ঘটেছে বা ফলাফল কারচুপির মাধ্যমে নির্ধারিত হয়েছে, এমন কোনো প্রমাণ এই প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।

**সূত্র:** *দ্য টাইমস অব ইসরায়েল*, চ্যানেল ১২ ও *হারেৎজ*-এর বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদন, ২৭ অক্টোবর ২০২৬।