আন্তর্জাতিক ডেস্ক | অধিকার পত্র ডটকম :
ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নতুন সামরিক অভিযানের আশঙ্কার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্য থেকে মধ্যপ্রাচ্যে প্যাট্রিয়ট আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা স্থানান্তর করা হচ্ছে। ইরানকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও ইসরায়েলের সামরিক প্রস্তুতি জোরদারের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম *দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল*–এর বরাত দিয়ে জানিয়েছে *দ্য জেরুজালেম পোস্ট*।
বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা বিবেচনায় রেখেই প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও সামরিক সরঞ্জাম প্রস্তুত করা হচ্ছে। তবে সম্ভাব্য অভিযান নিয়ে আলোচনা ও সামরিক প্রস্তুতির খবর পাওয়া গেলেও হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—এমন তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মোতায়েন
প্যাট্রিয়ট একটি উন্নত আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। এতে রাডার, নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণযন্ত্র এবং শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার জন্য ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র থাকে। আকাশপথে আসা নির্দিষ্ট ধরনের হুমকি শনাক্ত ও প্রতিহত করতে এই ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, টেক্সাস থেকে মধ্যপ্রাচ্যে এই প্রতিরক্ষাব্যবস্থা স্থানান্তরের লক্ষ্য হলো সম্ভাব্য সামরিক উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন বাহিনীর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো। তবে ব্যবস্থাটির সুনির্দিষ্ট গন্তব্য, মোতায়েনের সময়সূচি এবং কতগুলো ইউনিট স্থানান্তর করা হচ্ছে, সে বিষয়ে প্রকাশিত তথ্যে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
ঝুঁকিপূর্ণ ঘাঁটি থেকে সেনা সরানোর খবর
*দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল*–এর বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানের সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্র কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি থেকে সেনাসদস্যদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সামরিক গতিবিধি সম্পর্কে অবগত কর্মকর্তারা এ তথ্য দিয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে।
একই সঙ্গে উপসাগরীয় কয়েকটি আরব দেশকে ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে স্বল্পস্থায়ী কিন্তু তীব্র সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তবে কোন কোন দেশকে সতর্ক করা হয়েছে এবং দেশগুলো কী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
বোমারু বিমান ও যুদ্ধবিমানের প্রস্তুতি
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনী তাদের গোলাবারুদের মজুত পুনরায় পূরণ করছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বোমারু বিমান ও যুদ্ধবিমান প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।
এসব পদক্ষেপ ইরানকে ঘিরে সামরিক পরিকল্পনা ও প্রতিরক্ষামূলক প্রস্তুতি বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। তবে সামরিক সরঞ্জাম স্থানান্তর, সেনা পুনর্বিন্যাস কিংবা যুদ্ধবিমান প্রস্তুত রাখার অর্থ এই নয় যে অভিযান শুরু করার চূড়ান্ত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তায় কী প্রভাব পড়তে পারে?
ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য সামরিক তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। সংঘাত শুরু হলে মার্কিন সামরিক স্থাপনা, ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
এ অবস্থায় সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি কূটনৈতিক যোগাযোগ ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপের ওপরও নজর থাকবে। আপাতত প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো সম্ভাব্য অভিযানের প্রস্তুতির কথা বলছে; অভিযান কখন শুরু হবে বা আদৌ শুরু হবে কি না, তা নিশ্চিত নয়।
**সূত্র:** দ্য জেরুজালেম পোস্ট, ২৮ অক্টোবর ২০২৬; দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাত।
