আন্তর্জাতিক | ৩০ অক্টোবর ২০২৬ | অধিকারপত্র ডটকম
ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনে ভোট গণনা শেষ হলেও সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট কিংবা বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট—কেউই পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।
আলজাজিরার ২৯ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১২০ আসনের নেসেটে নেতানিয়াহুর জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী আরব দলগুলোর সম্মিলিত আসন ১৯।
ইসরায়েলে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। ফলে দুই প্রধান রাজনৈতিক শিবিরই প্রয়োজনীয় সংখ্যার চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে।
আরব দলগুলোর ১৯ আসন কেন গুরুত্বপূর্ণ?
নির্বাচনের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে আরব দলগুলোর আসনসংখ্যা। দুই আরবপন্থী রাজনৈতিক জোট—জয়েন্ট লিস্ট ও রা'আম—মিলে ১৯টি আসন পেয়েছে, যা তাদের জন্য ঐতিহাসিকভাবে বড় প্রতিনিধিত্ব।
নেতানিয়াহুর জোট ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে আটটি আসন দূরে। অন্যদিকে আইজেনকোটের বিরোধী জোটকে সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পৌঁছাতে আরব দলগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন।
তবে এই সহযোগিতা সহজ নয়। বিরোধী জোটের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনের অংশীদারত্বে আপত্তি জানিয়েছে।
সরকার গঠনে আইজেনকোটের তৎপরতা
নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর বৃহস্পতিবার বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোট সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের সঙ্গে বৈঠক করেন। দ্রুত নতুন সরকার গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে তাঁদের আলোচনা হয়।
এ ছাড়া ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা ইয়ার গোলানের সঙ্গেও বৈঠক করেন আইজেনকোট।
গোলান বিরোধী জোটের একমাত্র নেতা, যিনি ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইসরায়েলি নাগরিকদের নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনের সহযোগিতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
গোলান পৃথকভাবে রা'আম পার্টির নেতা মানসুর আব্বাসের সঙ্গেও বৈঠক করেন। ১৯টি আরব দলের আসনের মধ্যে রা'আমের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা সাত বলে প্রাথমিক হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
বৈঠকের পর গোলান বলেন, পরিবর্তনের সুযোগ হাতছাড়া না করা এবং ইসরায়েলের ভবিষ্যতের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া এখন তাঁদের দায়িত্ব।
নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ, তদন্তের নির্দেশ
নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর বিরুদ্ধে নির্বাচন চুরির অভিযোগ তোলে। তাদের দাবি, বিদেশি সহায়তায় নির্বাচনে অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে।
তবে এসব অভিযোগের পক্ষে প্রকাশ্যে যাচাইযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির প্রধান সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নোআম সোলবার্গ বিদেশি হস্তক্ষেপের সন্দেহের বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতকে তদন্তের অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, অভিযোগের সত্যতা তিনি নিজে নিশ্চিত করতে পারেননি।
আইজেনকোট অভিযোগ করেছেন, নেতানিয়াহু নির্বাচনের ফলকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছেন।
আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণার অপেক্ষা
ভোট গণনা শেষ হলেও নির্বাচনের ফলের আনুষ্ঠানিক প্রত্যয়ন এখনো বাকি। দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চূড়ান্ত ফল আগামী ৪ নভেম্বর প্রকাশের কথা রয়েছে।
এরপর প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
কোনো পক্ষ প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করতে না পারলে ইসরায়েল আবারও নতুন নির্বাচনের দিকে যেতে পারে।
নির্বাচনের ফল এক নজরে
| রাজনৈতিক পক্ষ | আসন |
| --------------------- | --- |
| নেতানিয়াহুর জোট | ৫৩ |
| আইজেনকোটের বিরোধী জোট | ৪৮ |
| আরব দলগুলো | ১৯ |
| মোট আসন | ১২০ |
| সরকার গঠনে প্রয়োজন | ৬১ |
সূত্র: ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি, আলজাজিরা ও দ্য টাইমস অব ইসরায়েল।
