জাহাঙ্গীর আলম: কথায় কথায় কমাতে না বলে ট্যাক্স দিয়ে দেশের উন্নয়নে এগিয়ে আসার জন্য সবাইকে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
২১ অক্টোবর, রবিবার সকালে গণভবনে নম্বর অপরিবর্তিত রেখে অপারেটর বদল বা মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি (এমএনপি) সেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এমএনপি সেবা নিতে সিম ট্যাক্সের বিষয়টি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এই ট্যাক্স বাতিলে সম্মতি দেওয়া হয়। এখন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ট্যাক্স প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, ‘কথায় কথায় যদি ট্যাক্স কমাতে বলেন, দেশের উন্নয়নটা হবে কী দিয়ে? সেটাও দেখতে হবে। কিছু ট্যাক্স তো মানুষকে দিতেই হবে। আজকে ট্যাক্স দিচ্ছে বলেই তো আমাদের বাজেট সাতগুণ বৃদ্ধি করতে পেরেছি। এই ডিজিটাল বাংলাদেশ, এই মোবাইল ফোন, সবকিছুই আমরা করতে পারছি। সবচেয়ে বড় কথা আমাদের বাইরের কারো কাছে হাত পাততে হচ্ছে না।’
‘একটা সময় ছিল বাংলাদেশ বাজেট করতে গেলে হাত পাততে হতো, এখন হাত পাততে হয় না। আমাদের নিজেদের অর্থায়নে করতে পারছি। এটা হচ্ছে আমাদের জন্য সম্মানের। এই সম্মানটাই তো আমরা ধরে রাখতে চাই। কিছু কিছু ট্যাক্স দিলে আমরা উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে পারব। অর্থমন্ত্রী যদি মাফ করে দিয়ে থাকেন তাহলে আমার কিছু বলার নাই। তবে আমি আবারও বলব, কথায় কথায় মাফ না চেয়ে... মানুষ এখন অর্থ উপার্জন করতে পারে।’
এমএনপির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এক অপারেটর থেকে আরেক অপারেটরে যাওয়ার এই আধুনিক প্রযুক্তি পৃথিবীর খুব সীমিত দেশ ব্যবহার করে। আমরা সেই যুগে প্রবেশ করছি। যদিও এটি একটা জটিল বিষয়, যেটাকে আজকে সহজভাবে করে দেওয়া হয়েছে। এতে অনেকের সুবিধা হবে।’
অনুষ্ঠানে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘আজকে মোবাইল ব্যবহারকারীদের স্বাধীনতা দিবস। একটি মোবাইল নম্বর একটি মানুষের ঠিকানা। এই নম্বর তাকে পরিচয় করিয়ে দেয়। অনেকে চাইলেও নানা সংকটের কারণে মোবাইল অপারেটর পরিবর্তন করতে পারেন না। যেটিকে জিম্মি দশা বলা যায়। আমরা এমএনপির মধ্য দিয়ে জিম্মি দশা থেকে স্বাধীন পর্যায়ে নিয়ে এসেছি।’
মোস্তাফা জব্বার জানান, এই সুবিধার ফলে অপারেটরদের দিকে এক প্রকার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে সরকার। কারণ গ্রাহক ধরে রাখতে অপারেটরগুলোকে গুণগতমান নিশ্চিত করতে হবে।
এ ছাড়া মোস্তাফা জব্বার তার বক্তব্যে ইন্টারনেটের ব্যান্ডউইথ, হাই-টেক পার্ক ইত্যাদি সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন।
তিনি জানান, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পর থেকে এখন পর্যন্ত ত্রুটি খুঁজে পাওয়া যায়নি। এই স্যাটেলাইট ১৫ বছর মেয়াদ অতিক্রম করে ১৮ বছর পর্যন্ত টিকে যাবে।
