নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র
আমেরিকার সংবিধানে নাগরিক স্বাধীনতার রক্ষাকবচ হিসেবে পরিচিত চতুর্থ সংশোধনীর তোয়াক্কা না করেই নতুন এক বিতর্কিত নীতি গ্রহণ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। অভ্যন্তরীণ একটি মেমোর মাধ্যমে অভিবাসন ও শুল্ক এনফোর্সমেন্ট (ICE) কর্মকর্তাদের বিচারবিভাগীয় পরোয়ানা (Judicial Warrant) ছাড়াই সাধারণ মানুষের বাড়িতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে এটি মার্কিন ইতিহাসে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ক্ষমতার এক নজিরবিহীন এবং বিপজ্জনক সম্প্রসারণ।
কী আছে এই নতুন নীতিতে?
গত ২০২৫ সালের মে মাসে ইস্যু করা এই গোপন মেমোটি সম্প্রতি একজন 'হুইসেলব্লোয়ার'-এর মাধ্যমে জনসমক্ষে আসে। এই নির্দেশিকা অনুযায়ী: আইসিই কর্মকর্তারা এখন থেকে শুধুমাত্র প্রশাসনিক পরোয়ানা (Administrative Warrant) ব্যবহার করে ব্যক্তিগত বাসস্থানে জোরপূর্বক প্রবেশ করতে পারবেন। পূর্বে, কোনো বাড়িতে প্রবেশের জন্য একজন নিরপেক্ষ বিচারকের স্বাক্ষরিত পরোয়ানা বাধ্যতামূলক ছিল। প্রশাসনিক পরোয়ানা সাধারণত আইসিই কর্মকর্তারা নিজেরাই ইস্যু করেন যা মূলত নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণে থাকে। এতে কোনো স্বাধীন বিচারিক পর্যালোচনার সুযোগ নেই।
সংবিধানের ওপর আঘাত: সরব বিশেষজ্ঞরা
ইউনিভার্সিটি অফ মেরিল্যান্ডের সাংবিধানিক আইন বিশেষজ্ঞ মার্ক গ্রেবার এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, আমরা জানতাম বিল অফ রাইটসের প্রথম ১০টি সংশোধনী আমাদের অধিকার রক্ষা করে। এই মেমো দেখার পর মনে হচ্ছে, আমরা এখন ১০টি থেকে ৯টিতে নেমে এসেছি। মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক ইমানুয়েল মৌলিয়ন বিষয়টিকে 'রুবিকন অতিক্রম করা'র (সীমা লঙ্ঘন) সাথে তুলনা করেছেন। তিনি বলেন এটি এমন এক ব্যবস্থা যেখানে পুলিশ অফিসার নিজেই তথ্য প্রমাণ জোগাড় করছেন এবং নিজেই নিজের তল্লাশি পরোয়ানা টাইপ করছেন। এখানে কোনো জবাবদিহিতা নেই।
প্রশাসনের যুক্তি ও বাস্তবতা
ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (DHS) এই সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই গেয়ে জানিয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পরোয়ানা আছে, তারা ইতিমধ্যে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশ (Final Order of Removal) রয়েছে। তবে পরিসংখ্যান বলছে গত বছর লক্ষাধিক মানুষকে তাদের অনুপস্থিতিতেই (In absentia) বহিষ্কারের আদেশ দেওয়া হয়েছে। সমালোচকদের মতে, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে এভাবে ঘরে ঢুকে অভিযান চালানোয় সাধারণ নাগরিক ও অভিবাসী উভয়েই চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবেন।
রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া
এই সংবাদ প্রকাশের পর ডেমোক্র্যাট শিবির ও নাগরিক অধিকার কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেন্থাল: হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েম এবং আইসিই পরিচালককে কংগ্রেসের মুখোমুখি হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। গভর্নর টিম ওয়ালজ: এই পদক্ষেপকে স্বাধীনতা ও গোপনীয়তার ওপর হামলা" বলে অভিহিত করেছেন এবং সকল আমেরিকানকে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে এটি এলোপাথাড়ি দরজা ভেঙে প্রবেশের গ্রিন সিগনাল নয়। মাঠ পর্যায়ে আইসিই-এর সাম্প্রতিক আক্রমণাত্মক কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়িয়ে দিয়েছে।
--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: