নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র
ডিমকে বলা হয় সুপারফুড। প্রোটিন, ভিটামিন আর খনিজ উপাদানে ঠাসা এই খাবারটি সকালের নাস্তায় প্রায় অপরিহার্য। তবে পুষ্টিগুণে ভরপুর হলেও প্রতিদিন কয়টি ডিম খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্নের শেষ নেই। সম্প্রতি গবেষক ও পুষ্টিবিদরা জানিয়েছেন এর কোনো নির্দিষ্ট ওয়ান-সাইজ-ফিটস-অল বা সবার জন্য প্রযোজ্য একক উত্তর নেই।
পুষ্টির পাওয়ার হাউস: কেন খাবেন ডিম?
ভিয়েতনাম ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ নিউট্রিশনের বিশেষজ্ঞ ড. নগুয়েন কুয়োক আনহ্-এর মতে ডিমে রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিন এবং লিউসিনের মতো প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো অ্যাসিড, যা পেশি গঠনে সহায়তা করে। একটি বড় ডিমে (প্রায় ৫০ গ্রাম) থাকে:
ক্যালরি: মাত্র ৭২ কিলোক্যালরি
প্রোটিন: ৬ গ্রাম
ভিটামিন ডি: ৪১ আইইউ (IU)
ভিটামিন এ: ২৭০ আইইউ (IU)
এছাড়া ডিমের কুসুমে থাকা লুটেইন ও জেক্সানথিন চোখের জ্যোতি বাড়াতে এবং কোলিন মস্তিষ্কের কার্যকারিতা সচল রাখতে সাহায্য করে।
দেশভেদে ভিন্ন মত: বৈশ্বিক নির্দেশিকা
ডিম খাওয়ার পরিমাণ নিয়ে বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শে ভিন্নতা দেখা যায়। যেমন:
জার্মানি: সপ্তাহে মাত্র ১টি ডিম খাওয়ার পরামর্শ দেয়।
স্পেন ও আয়ারল্যান্ড: সপ্তাহে ৪ থেকে ৭টি ডিমকে নিরাপদ মনে করে।
যুক্তরাষ্ট্র: আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের মতে, সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রতিদিন ১টি ডিম যুক্তিযুক্ত।
এশিয়া: চীন সপ্তাহে ৫-৭টি ডিম খাওয়ার উৎসাহ দেয়। অন্যদিকে জাপানে নির্দিষ্ট সীমা না থাকলেও সেখানকার মানুষ গড়ে প্রতিদিন প্রায় একটি করে ডিম খান।
কার জন্য কয়টি ডিম?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিমের সংখ্যা নির্ভর করে ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা ও জীবনযাত্রার ওপর:
সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক: যাদের হৃদরোগ বা উচ্চ কোলেস্টেরলের সমস্যা নেই তারা সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে প্রতিদিন একটি ডিম অনায়াসে খেতে পারেন।
ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠী: ডায়াবেটিস, লিভারের সমস্যা বা হৃদরোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত ডিম গ্রহণে এই শ্রেণির মানুষের হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই তাদের সপ্তাহে ২-৩টির বেশি ডিম না খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
শিশু ও গর্ভবতী নারী: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) শারীরিক বিকাশের জন্য শিশুদের খাদ্যতালিকায় ডিম রাখার ওপর জোর দিয়েছে। মার্কিন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ১২-২৩ মাস বয়সী শিশুদের জন্য সপ্তাহে অন্তত একটি বড় ডিম জরুরি।
বৈচিত্র্যই সুস্থতার চাবিকাঠি
বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন যে ডিম প্রোটিনের একটি চমৎকার উৎস হলেও এটিই একমাত্র উৎস নয়। শরীরকে সব ধরণের পুষ্টি দিতে ডিমের পাশাপাশি চর্বিহীন মাংস, সামুদ্রিক মাছ, হাঁস-মুরগি এবং ডালজাতীয় খাবারও ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত।
--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: