নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র
দেশের ক্রীড়াঙ্গনে যখনই হকির কথা আসলে অবধারিতভাবেই পুরুষ দলের নাম ভেসে উঠে। কিন্তু গত কয়েক বছরে দৃশ্যপট পাল্টে দিয়েছে লাল-সবুজের অদম্য একঝাঁক তরুণী। দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর লড়াই শেষে বাংলাদেশের নারী হকি এখন আর কেবল অংশগ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই বরং এশিয়ার পরাশক্তি হওয়ার পথে এক বিশাল জাগরণ সৃষ্টি করেছে।
ঐতিহাসিক মাইলফলক
ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমস বাছাইপর্বে হংকং ও উজবেকিস্তানের মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমসে (২০২৬ আইচি-নাগোয়া) খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এটি কেবল একটি টুর্নামেন্টে কোয়ালিফাই করা নয়। বাংলাদেশের নারী হকির ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন।
সাফল্যের পেছনের কারিগর
এই জাগরণের মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করছে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)। বর্তমান জাতীয় দলের সিংহভাগ খেলোয়াড়ই বিকেএসপির নিবিড় পরিচর্যায় বেড়ে উঠেছেন। ২০২০ সাল থেকে শুরু হওয়া দীর্ঘমেয়াদী ক্যাম্প এবং কোচ জাহিদ হোসেন রাজুর কৌশলী নির্দেশনা এই সাফল্যের ভিত গড়ে দিয়েছে। অধিনায়ক অর্পিতা পালের ক্ষিপ্রতা আর শারিকা রিমন-আইরিন রিয়ার গোল করার দক্ষতা মাঠের লড়াইয়ে বাংলাদেশকে অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছে।
চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা
মাঠের সাফল্য আকাশচুম্বী হলেও মাঠের বাইরের পথটা এখনো মসৃণ নয়। দেশে এখনো নারীদের জন্য নিয়মিত কোনো পেশাদার হকি লিগ নেই। যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা এবং নিয়মিত ঘরোয়া লিগ আয়োজন করা গেলে এই মেয়েরা এশিয়ান গেমসের মূল পর্বেও চমক দেখাতে পারবে বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা। বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের মতে এশিয়ান গেমসে খেলার টিকিট পাওয়া কেবল শুরু। আধুনিক টার্ফ সুবিধা এবং পর্যাপ্ত স্পন্সরশিপ নিশ্চিত করতে পারলে ক্রিকেট বা ফুটবলের মতো হকিও হতে পারে বাংলাদেশের মেয়েদের নতুন এক গর্বের জায়গা। শূন্য থেকে শুরু করে এশিয়ান গেমসের আঙিনায় পৌঁছানো এই মেয়েরা প্রমাণ করেছেন সুযোগ পেলে তারাও বিশ্ব জয় করতে পারেন। এখন সময় তাদের পাশে দাঁড়ানোর যাতে স্টিক হাতে লাল-সবুজের জয়গান আরও জোরালো হয়।
--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: