নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি অর্থবহ চুক্তিতে পৌঁছাতে বিশ্বের হাতে আর মাত্র ১০ দিন সময় আছে। অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপের পথে হাঁটতে পারে। ওয়াশিংটনে নবগঠিত বোর্ড অফ পিস (Board of Peace)-এর উদ্বোধনী সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
হয় চুক্তি, নয় কঠিন পদক্ষেপ
উদ্বোধনী ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় আসতে আমাদের এখনো বেশ কিছু কাজ বাকি। আমরা একটি অর্থবহ চুক্তির চেষ্টা করছি, কারণ অতীতে দেখা গেছে এটি সহজ কাজ নয়। যদি চুক্তি না হয় তবে আমাদের আরও এক ধাপ এগিয়ে যেতে হতে পারে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যেই পরিষ্কার হয়ে যাবে যুক্তরাষ্ট্র কোন পথে এগোচ্ছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিটও সুর মিলিয়ে বলেছেন, ইরানের জন্য এই মুহূর্তে একটি চুক্তিতে আসা হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। তবে তিনি যোগ করেন, প্রেসিডেন্ট এখনো একটি কূটনৈতিক সমাধানের আশা রাখছেন।
রণপ্রস্তুতি ও সামরিক উত্তেজনা
কূটনৈতিক আলোচনার সমান্তরালে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করছে পেন্টাগন। বর্তমানে ওই অঞ্চলে USS Abraham Lincoln বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করা হয়েছে। গত বছর (জুলাই ২০২৫) যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা চালিয়েছিল। নতুন করে আরও সামরিক হামলার বিকল্প নিয়ে হোয়াইট হাউসে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মার্কিন বাহিনীকে পাল্টা হুমকি দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, আমেরিকার যুদ্ধজাহাজ বিপজ্জনক হলেও ইরানের কাছে এমন অস্ত্র আছে যা সেই জাহাজকে সমুদ্রের তলদেশে পাঠিয়ে দিতে সক্ষম। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে ইরানও তাদের সামরিক স্থাপনাগুলো শক্তিশালী করছে।
বিভাজিত কংগ্রেস: যুদ্ধ প্রতিরোধের চেষ্টা
প্রেসিডেন্টের এই সামরিক হুঙ্কারে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও প্রতিবাদের সুর শোনা যাচ্ছে। ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি রো খান্না এবং কেনটাকির রিপাবলিকান টমাস মাসি ১৯৭৩ সালের ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট (War Powers Act) উল্লেখ করে একটি প্রস্তাব আনতে যাচ্ছেন। রো খান্না সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ হবে বিপর্যয়কর। ৯০ মিলিয়ন মানুষের দেশ ইরানের শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সামরিক সক্ষমতা রয়েছে। এই যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত হাজার হাজার মার্কিন সেনা ঝুঁকির মুখে পড়বে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাব কংগ্রেসের উভয় কক্ষে পাস হওয়ার সম্ভাবনা বেশ কম। এর আগে ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে রিপাবলিকানরা একই ধরনের একটি প্রস্তাব আটকে দিয়েছিলেন।
বোর্ড অফ পিস-এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
প্রাথমিকভাবে মনে করা হয়েছিল ট্রাম্পের এই 'বোর্ড অফ পিস' গাজা যুদ্ধের অবসান এবং পুনর্গঠন নিয়ে কাজ করবে। কিন্তু বর্তমানে ইরান ইস্যু যেভাবে এই বোর্ডের আলোচনায় প্রাধান্য পাচ্ছে, তাতে আন্তর্জাতিক মহলে সংশয় তৈরি হয়েছে। প্রায় দুই ডজন দেশের সমন্বয়ে গঠিত এই বোর্ড আসলে জাতিসংঘকে পাশ কাটিয়ে মার্কিন আধিপত্য বিস্তারের একটি কৌশল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকরা। সুইজারল্যান্ডে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে ইরানি প্রতিনিধিদের বৈঠক চললেও ট্রাম্পের ১০ দিনের সময়সীমা' মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অশান্তির শঙ্কা তৈরি করেছে।
--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: