odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Tuesday, 24th February 2026, ২৪th February ২০২৬
ইন্টার মায়ামির পারফরম্যান্স বিশ্বকাপের জন্য মেসির ফিটনেস নির্দেশ করবে

শেষ বাঁশির অপেক্ষায় জাদুকর: ২০২৬ বিশ্বকাপ কি মেসির জন্য বিষাদময় হবে

Special Correspondent | প্রকাশিত: ২৩ February ২০২৬ ২১:৪১

Special Correspondent
প্রকাশিত: ২৩ February ২০২৬ ২১:৪১

নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র

লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারের শেষের শুরু কি তবে হয়ে গেল? ২০২৬ বিশ্বকাপের দামামা যখন বাজছে তখন ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন আর্জেন্টাইন জাদুকর কি পারবেন তার শ্রেষ্ঠত্বের মুকুটে শেষ পালকটি যোগ করতে? নাকি মাঠের ফুটবলে তার শেষটা হবে একরাশ হতাশার? সম্প্রতি ইন্টার মায়ামির হয়ে ২০২৬ মৌসুমের শুরুটা মেসির জন্য মোটেও সুখকর ছিল না। সন হিউং-মিনের লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির (LAFC) কাছে ৩-০ গোলের বড় হার কেবল একটি ম্যাচের ফল নয় বরং মেসির বর্তমান ফর্ম এবং ফিটনেস নিয়ে জন্ম দিয়েছে হাজারো প্রশ্ন।

মায়ামিতে একাকী মেসি

গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে এমএলএস (MLS) মাতানো সেই খুদে জাদুকরকে এবারের মৌসুমে প্রথম ম্যাচে কিছুটা অচেনা লেগেছে। জর্দি আলবা এবং সার্জিও বুসকেটসের অবসরের পর ইন্টার মায়ামিতে মেসি অনেকটা একা হয়ে পড়েছেন। লুইস সুয়ারেজও এখন আর শুরুর একাদশে নিয়মিত নন। মাঠের খেলায় পুরনো সতীর্থদের সেই বোঝাপড়া না থাকায় মেসির ওপর চাপ বাড়ছে কয়েক গুণ।

বিশ্বকাপের চ্যালেঞ্জ এবং স্কালোনির উদ্বেগ

আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি সবসময়ই মেসির সিদ্ধান্তের ওপর ভরসা রেখেছেন। তবে এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। আর্জেন্টিনার নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়দের ফর্ম এবং ইনজুরি চিন্তায় ফেলেছে স্কালোনিকে:

অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার: লিভারপুলের হয়ে শিরোপা জেতার পর ফর্মে কিছুটা ভাটা পড়েছে।

লাউতারো মার্টিনেজ: নতুন করে ইনজুরিতে পড়েছেন এই স্ট্রাইকার।

নিকোলাস ওটামেন্ডি: ৩৮ বছর বয়সে পৌঁছেছেন এই রক্ষণভাগের অতন্দ্র প্রহরী।

তরুণ তুর্কিদের স্থবিরতা: আলেজান্দ্রো গারনাচোর মতো তরুণরা প্রত্যাশা অনুযায়ী জ্বলে উঠতে পারছেন না।

অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়ার যোগ্য উত্তরসূরি এখনও খুঁজে পায়নি আলবিসেলেস্তেরা। এমতাবস্থায় দলের সবচেয়ে বড় স্তম্ভ হিসেবে মেসির প্রয়োজনীয়তা আগের চেয়ে অনেক বেশি।

মেসি কি খেলবেন?

বিশ্বকাপের সময় মেসির বয়স হবে ৩৯। তিনি নিজেই জানিয়েছেন শারীরিক অবস্থা শতভাগ ঠিক না থাকলে তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়াবেন। অক্টোবর মাসে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, আমি প্রতিদিন নিজেকে যাচাই করছি। যদি অনুভব করি আমি দলকে সাহায্য করতে পারছি, তবেই আমি সেখানে থাকব। আর্জেন্টিনা গত কোপা আমেরিকা জিতেছিল মেসির সেরা ফর্ম ছাড়াই। সেটি দলের গভীরতার প্রমাণ দিলেও বিশ্বকাপের মতো আসরে মেসির মতো একজন নেতার অভাব পূরণ করা সহজ নয়।

রেকর্ডের হাতছানি

যদি মেসি খেলেন এবং আর্জেন্টিনা শিরোপা ধরে রাখতে পারে, তবে তিনি হবেন ফুটবল ইতিহাসের প্রথম অধিনায়ক যিনি টানা দুটি বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরবেন। তার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো যখন সৌদি আরবের মাঠে ১০০০ গোলের মাইলফলক তাড়া করছেন মেসি তখন তাকিয়ে আছেন তার উত্তরসূরিদের সাথে নিয়ে শেষবার বিশ্বমঞ্চ রাঙাতে। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়, ২০২৬ বিশ্বকাপ কি মেসির জন্য ‘লাস্ট ড্যান্স’ বা শেষ নৃত্য হওয়ার সুযোগ দেবে নাকি এটি শুধুই একটি ক্লান্তিকর সমাপ্তি হয়ে থাকবে? সময় এবং মেসির ফিটনেসই দেবে সেই উত্তর।

---মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: