নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় এক ইফতার মাহফিলে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমকে ফ্যাসিস্টের দোসর বলে সম্বোধন করায় অবরুদ্ধ হয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন। আজ মঙ্গলবার বিকেলে বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। প্রায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর রাত ৮টার দিকে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।
ঘটনার সূত্রপাত
মঙ্গলবার বিকেলে পঞ্চবটি বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় জামায়াতে ইসলামী পেশাজীবী ফোরাম (নারায়ণগঞ্জ পূর্ব থানা) এক ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল আমিন এবং বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন মঞ্চে এসে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমকে দেখে ক্ষুব্ধ হন। তিনি মোহাম্মদ হাতেমকে ফ্যাসিস্টদের দোসর হিসেবে অভিহিত করেন এবং তার সাথে মঞ্চ শেয়ার করতে অস্বীকৃতি জানান।
উত্তেজনা ও অবরুদ্ধ অবস্থা
এমপির এমন মন্তব্যের পর মোহাম্মদ হাতেম এবং তার অনুসারী ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা অনুষ্ঠান বর্জন করে বেরিয়ে যান। এর পরপরই বিকেএমইএ সভাপতির অনুসারী এবং স্থানীয় কিছু নেতাকর্মী বিক্ষুব্ধ হয়ে বিসিকের ১ নম্বর গেট এলাকায় সংসদ সদস্য আল আমিনকে একটি পোশাক কারখানার ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এ সময় বাইরে উত্তেজিত জনতা অবস্থান নিলে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
উদ্ধার অভিযান
খবর পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) মো. হাসিনুজ্জামানের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রায় দুই ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতি শেষে রাত ৮টা ৫ মিনিটের দিকে পুলিশ সংসদ সদস্যকে উদ্ধার করে চাষাঢ়ায় তার কার্যালয়ে পৌঁছে দেয়।
পক্ষ-বিপক্ষের বক্তব্য
উদ্ধার হওয়ার পর সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন গণমাধ্যমকে বলেন: জুলাই অভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকে তাণ্ডব বলেছিলেন মোহাম্মদ হাতেম। তিনি ফ্যাসিস্ট সেলিম ওসমানের কমিটির নির্বাহী সভাপতি ছিলেন। আমরা তাকে ফ্যাসিস্টের দোসরই মনে করি। ওনার মতো লোকের সঙ্গে আমি স্টেজ শেয়ার করতে পারি না। পরে ওনার লোকজন আমাদের ওপর হামলার চেষ্টা করেছে।
অন্যদিকে এ ঘটনায় মোহাম্মদ হাতেমের অনুসারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, একজন সংসদ সদস্যের কাছ থেকে প্রকাশ্যে এমন ‘অপমানজনক’ মন্তব্য কাম্য নয়।
পুলিশের ভাষ্য
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি জানান, ইফতার মাহফিলে বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সংসদ সদস্যকে নিরাপত্তা দিয়ে তার গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: