odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Monday, 6th April 2026, ৬th April ২০২৬
ইরানের শিক্ষা অবকাঠামোতে হামলা | Shahid Beheshti University bombing update | অধিকারপত্র

ইরানের ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা! ধ্বংসের মুখে শিক্ষা ও গবেষণা, মধ্যযুগীয় বর্বরতার দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা!

odhikarpatra | প্রকাশিত: ৫ April ২০২৬ ০৪:১২

odhikarpatra
প্রকাশিত: ৫ April ২০২৬ ০৪:১২

অধিকারপত্র ডটকম
প্রতিবেদন প্রকাশের তারিখ: ৫ এপ্রিল, ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানের ওপর চলমান যুদ্ধের ভয়াবহতা এবার স্পর্শ করল দেশটির উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা খাতকে। যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ইরানের অন্তত ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। সর্বশেষ গত ৩ এপ্রিল তেহরানের অভিজাত 'শহীদ বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয়'-এর লেজার অ্যান্ড প্লাজমা রিসার্চ ইনস্টিটিউটে বোমা হামলা চালিয়ে সেটিকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা হয়েছে।


বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার সময় পাঠদান অনলাইনে চলায় বড় ধরনের প্রাণহানি না ঘটলেও গবেষণাগারটির অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। উল্লেখ্য, এই ইনস্টিটিউটের সাথে যুক্ত ছিলেন বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী মোহাম্মদ মেহদি তেহরানচি, যাকে গত জুনে ইসরায়েল হত্যা করেছিল। বিশ্ববিদ্যালয় এক বিবৃতিতে এই হামলাকে 'বিবেক ও মুক্তচিন্তার ওপর আক্রমণ' বলে অভিহিত করেছে।


ইরানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী হোসেন সিমাই সারাফ শনিবার ধ্বংসপ্রাপ্ত গবেষণা কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত ৩০টি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরাসরি হামলার শিকার হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে 'পাথর যুগে' (Stone Age) ফিরিয়ে নেওয়ার যে হুমকি দিয়েছিলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলা সেই পরিকল্পনারই অংশ।


বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও হামলার শিকার হয়েছে তেহরানের ১০০ বছরের পুরনো 'পাস্তুর ইনস্টিটিউট'। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) নিশ্চিত করেছে যে, এই জনহিতকর চিকিৎসাকেন্দ্রটি হামলার ফলে অকেজো হয়ে পড়েছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য জীবন রক্ষাকারী ভ্যাকসিন ও ডায়াগনস্টিক সেবা বন্ধ করে দিয়েছে। এছাড়া গত সপ্তাহে তেহরানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যাটেলাইট গবেষণা কেন্দ্রটিও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।


বিশ্লেষকরা বলছেন, বেসামরিক অবকাঠামো ও গবেষণা কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার মাধ্যমে ইরানের দীর্ঘমেয়াদী বৈজ্ঞানিক সক্ষমতা নষ্ট করাই এই হামলার মূল উদ্দেশ্য। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞগণ শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে এ ধরনের আক্রমণকে স্পষ্ট 'যুদ্ধাপরাধ' হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: