অধিকারপত্র ডটকম, আন্তর্জাতীক ডেক্স:
ঢাকা, ১৬ এপ্রিল ২০২৬: দেশের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকাগুলোর প্রথম পাতায় আজ উঠে এসেছে রাজনীতি, অর্থনীতি, স্বাস্থ্যখাত ও প্রশাসনের বহুমাত্রিক সংকটের চিত্র।
মানবজমিনের প্রধান শিরোনাম “রিফাইন্ড আওয়ামী লীগে সায় নেই হাসিনার”। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগকে নতুনভাবে গড়ে তোলার জন্য ভারত সরকারের পক্ষ থেকে দুটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। একটিতে শেখ হাসিনাকে কাতারে যাওয়ার কথা বলা হয়, অন্যটিতে নতুন আওয়ামী লীগ গঠনে মতামত চাওয়া হয়। তবে তিনি কৌশলে দুই প্রস্তাবই প্রত্যাখ্যান করেন। একাধিক বৈঠকের পর এ বিষয়ে ভারতের আগ্রহও কমে যায় বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
দেশ রূপান্তর লিখেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের একটি সিদ্ধান্তেই স্বাস্থ্যখাতে বড় ধস নেমেছে। অপারেশনাল প্ল্যান (ওপি) বন্ধ করে দেওয়ায় টিকাদান কার্যক্রমে ভাটা, ওষুধের সংকট এবং মাঠপর্যায়ের কর্মীদের বেতন বন্ধ হয়ে গেছে। জনস্বাস্থ্যবিদরা সতর্ক করেছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ডিপথেরিয়া, টিটেনাসসহ বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়তে পারে।
কালের কণ্ঠের খবরে উঠে এসেছে, মাত্র দেড় মাসে সরকার বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৭৮ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। এতে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সমকালের প্রধান শিরোনামে জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। প্রচলিত নিয়ম না মেনে গোপনে সাক্ষাৎকার নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যার ফলে প্রশাসনের ভেতরে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
বণিক বার্তা জানিয়েছে, ভারতে ব্যাংকের সংখ্যা কমিয়ে খাতকে শক্তিশালী করা হলেও বাংলাদেশে ব্যাংকের সংখ্যা বেড়ে ৫২-এ দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে খেলাপি ঋণের হার ৩০ শতাংশ ছাড়িয়েছে, যা ব্যাংক খাতের জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আজকের পত্রিকা লিখেছে, বড় দলগুলোর বঞ্চিত ও নিষ্ক্রিয় নেতাদের দলে ভেড়াতে চায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রথম আলোর খবরে বলা হয়েছে, হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন অভিভাবকেরা। সরকারি হাসপাতালে সীমিত সুবিধা ও ওষুধের ঘাটতির কারণে অনেককে বেসরকারি হাসপাতালে যেতে হচ্ছে, ফলে খরচ বাড়ছে কয়েকগুণ।
দ্য ডেইলি স্টার জানিয়েছে, জ্বালানি ও সার আমদানির জন্য জুন পর্যন্ত সরকারের অতিরিক্ত ২.৬১ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। এই অর্থ জোগাড়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
টাইমস অব বাংলাদেশের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, প্রায় ৭০০ কর্মকর্তা বর্তমানে ‘ওএসডি’ হিসেবে কর্মহীন অবস্থায় আছেন, যাদের পেছনে মাসে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। যদিও সরকার এ সংখ্যা নিয়ে দ্বিমত পোষণ করেছে।
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানায়, আবাসন খাতে বুকিং বাতিল ও খেলাপি ঋণ বেড়ে সংকট গভীর হয়েছে। উচ্চ সুদ, নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি ও বিনিয়োগকারীদের অনিশ্চয়তা এই অবস্থার জন্য দায়ী বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সামগ্রিকভাবে, দেশের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক চাপ, স্বাস্থ্যখাতের দুর্বলতা ও প্রশাসনিক জটিলতা একসঙ্গে জাতীয় পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।
#বাংলাদেশ #রাজনীতি #অর্থনীতি #স্বাস্থ্যখাত #ব্যাংকঋণ #প্রশাসনসংকট #নির্বাচন #আওয়ামীলীগ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: