odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Tuesday, 8th September 2026, ৮th September ২০২৬
ইউনিফর্ম নীতিমালায় ‘রয়্যাল’ শব্দ বাদ, তলোয়ার বহনে নতুন বিধান ও দেশীয় পোশাকের অন্তর্ভুক্তি

ব্রিটিশ আমলের রীতি বাদ দিয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে বড় পরিবর্তন

odhikarpatra | প্রকাশিত: ১৪ June ২০২৬ ১৬:৪২

odhikarpatra
প্রকাশিত: ১৪ June ২০২৬ ১৬:৪২

আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি | অধিকারপত্র ডটকম

নয়াদিল্লি: ভারতীয় সেনাবাহিনী তাদের নতুন ‘আর্মি ইউনিফর্মস-২০২৬’ নীতিমালায় ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলের বিভিন্ন রীতি ও পরিভাষা বাতিল করেছে। নতুন নীতিমালায় ‘রয়্যাল’ শব্দের ব্যবহার বাদ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রিভিউয়িং অফিসারদের জন্য তলোয়ার বহন বাধ্যতামূলক না রেখে তা ঐচ্ছিক করা হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সেনাবাহিনীর পোশাক সংক্রান্ত নতুন নীতিমালায় নির্দিষ্ট মেস ড্রেসের সঙ্গে ব্যবহৃত পাউচ বেল্টও বাদ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আনুষ্ঠানিক পোশাকের অংশ হিসেবে দেশীয় ‘বান্দি জ্যাকেট’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বান্দি জ্যাকেট হলো বন্ধ গলার একটি কোট, যা পূর্ণহাতা শার্ট, ফরমাল ট্রাউজার ও বন্ধ জুতার সঙ্গে পরিধান করতে হবে। এর মাধ্যমে সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিক বেসামরিক পোশাকে দেশীয় ঐতিহ্যের প্রতিফলন ঘটানো হয়েছে।

নতুন নীতিমালার ‘দেশীয়করণ এবং জাতীয় চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্য’ অধ্যায়ে বলা হয়েছে, জাতীয় পরিচয় ও সার্বভৌম চেতনার বিকাশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পোশাকবিধিতে একাধিক পরিবর্তন আনা হয়েছে।

তলোয়ার বহনের বিষয়ে নতুন বিধানে বলা হয়েছে, এখন থেকে শুধুমাত্র প্যারেড কমান্ডার, কন্টিনজেন্ট কমান্ডার এবং বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাই তলোয়ার বহন করতে পারবেন। প্রজাতন্ত্র দিবস, স্বাধীনতা দিবস, সেনাবাহিনী দিবস ও গার্ড অব অনারের মতো অনুষ্ঠানে এ নিয়ম কার্যকর থাকবে।

নীতিমালায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, রিভিউয়িং অফিসাররা আর প্যারেডে তলোয়ার বহন করবেন না।

শীতকালীন পোশাকেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। বর্তমানে ব্যবহৃত জার্সিভিত্তিক শীতকালীন ইউনিফর্মের পরিবর্তে ধাপে ধাপে নতুন ‘ব্যাটল জ্যাকেট’ চালু করা হবে। ২০২৯ সালের জুনের মধ্যে এ রূপান্তর সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

পোশাকবিধিতে ব্যক্তিগত সাজসজ্জা ও আচরণ সম্পর্কেও কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় অস্বাভাবিক চুলের ছাঁট, অনুমোদনহীন দাড়ি, দৃশ্যমান ইলেকট্রনিক যন্ত্র, ট্যাটু, শরীর ছিদ্র করে অলংকার পরা এবং অতিরিক্ত প্রসাধনী ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এ ছাড়া রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা বিক্ষোভ সমাবেশ, বিয়ে, ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান এবং অনুমোদন ছাড়া অর্থের বিনিময়ে গণমাধ্যমে উপস্থিত হওয়ার সময় সেনা ইউনিফর্ম পরাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এর আগে চলতি বছর ভারতীয় সেনাবাহিনী ২৪৬টি সড়ক, ভবন ও স্থাপনার নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়। ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকার থেকে সরে আসার অংশ হিসেবে দিল্লি ক্যান্টনমেন্টের ‘মল রোড’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘অরুণ খেত্রপাল মার্গ’ এবং কলকাতার ঐতিহাসিক ফোর্ট উইলিয়ামের নাম পরিবর্তন করে ‘বিজয় দুর্গ’ রাখা হয়।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: