নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপসহ গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এবং গণভোটের বিধান আনুষ্ঠানিকভাবে পুনর্বহাল হলো। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।
এই রায়ের ফলে সংবিধানের ৭(ক), ৭(খ) এবং ৪৪(২) অনুচ্ছেদসহ পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের বিতর্কিত ধারাগুলো বাতিল ও সাংঘর্ষিক হিসেবে গণ্য হবে। একইসঙ্গে, মৌলিক অধিকার বলবৎ করার ক্ষমতা এককভাবে সুপ্রিম কোর্টের হাতে ন্যস্ত থাকবে।
আদালতের রায়ের গুরুত্ব
রায় ঘোষণার পর অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল সংবাদমাধ্যমকে জানান, আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বহাল রাখায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান ফিরে এসেছে। তিনি বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশের সংবিধানে যে আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছিল, তা মানুষের বাকস্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করেছিল। এই রায়ের ফলে সেই বাধাগুলো অপসারিত হলো।
অ্যাটর্নি জেনারেল আরও জানান, পঞ্চদশ সংশোধনীতে অন্যান্য যেসব পরিবর্তন আনা হয়েছিল, সেগুলোর বিষয়ে জাতীয় সংসদ পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
মামলার প্রেক্ষাপট
২০১১ সালের ৩০ জুন তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পঞ্চদশ সংশোধনী আইন জাতীয় সংসদে পাস হয়, যার মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল এবং সংবিধানে ৫৪টি ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর এই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়।
২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট এক রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোট বাতিল সংক্রান্ত আইনের ২০ ও ২১ ধারা অবৈধ ঘোষণা করেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ চার ব্যক্তি, নওগাঁর মো. মোফাজ্জল হোসেন এবং জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার পৃথক তিনটি আপিল করেন।
গত সোমবার থেকে আপিল বিভাগে এই শুনানি শুরু হয় এবং টানা তিন দিন শুনানির পর বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগ চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করলেন।
শুনানিতে ড. বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভুঁইয়া, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির এবং মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল হোসেনের পক্ষে ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির শুনানি পরিচালনা করেন।
--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: