odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Monday, 13th July 2026, ১৩th July ২০২৬
আইএমএফের নতুন ঋণের প্রত্যাশা ও ডলারের বিনিময় হার- বাংলাদেশ ব্যাংকে শুরু হয়েছে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

আইএমএফের শর্ত ও নতুন ঋণ কর্মসূচি: ডলারের দাম বাড়ালো বাংলাদেশ ব্যাংক

Special Correspondent | প্রকাশিত: ১৩ July ২০২৬ ০০:০৫

Special Correspondent
প্রকাশিত: ১৩ July ২০২৬ ০০:০৫

নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত বাস্তবায়ন ও অর্থনৈতিক সংস্কারের অংশ হিসেবে আবারও ডলারের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রোববার দেশের আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে ডলারের দাম গড়ে ১৩ পয়সা এবং সর্বোচ্চ ১৫ পয়সা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে ব্যাংকগুলোতে গ্রাহক পর্যায়ে আমদানি খাতের ডলার এখন ১২৩ টাকা ৯০ পয়সা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের অস্থিরতা

দীর্ঘদিন আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের সর্বোচ্চ দর ১২২ টাকা ৮৫ পয়সায় স্থিতিশীল থাকলেও, রোববারের ব্যবধানে তা ১৫ পয়সা বেড়ে ১২৩ টাকায় উন্নীত হয়েছে। গড় লেনদেনের দরও ১২৩ টাকা ৮৫ পয়সা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৩ টাকা ৯৮ পয়সায়। এর প্রভাবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও তাদের আমদানি দায় মেটানোর জন্য ডলারের দর ১২৩ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে ১২৩ টাকা ৯০ পয়সায় উন্নীত করেছে।

আইএমএফ মিশন ও নতুন ঋণ আলোচনা

ডলারের দর বৃদ্ধির এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার জন্য আইএমএফের একটি ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দল বর্তমানে ঢাকা সফর করছে। রোববার সকালে প্রতিনিধি দলটির নেতৃত্বদানকারী ইভো ক্রজনার বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরদের সঙ্গে প্রাথমিক ও পরিচিতিমূলক বৈঠক করেন। এরপর তারা সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গেও বৈঠক করেন।

সূত্র জানিয়েছে, আইএমএফের পক্ষ থেকে ডলারের বিনিময় হার পুরোপুরি বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর দীর্ঘদিনের চাপ রয়েছে। এবারের সফরে তারা কেবল আর্থিক খাতের সংস্কার নয়, বরং ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট, রাজস্ব আহরণ কৌশল এবং সরকারি বেতন কাঠামো নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করবে।

নতুন ঋণ ও সরকারের অবস্থান

বর্তমান সরকার আইএমএফের কাছ থেকে তিন বছরের জন্য ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলারের নতুন ঋণ কর্মসূচি প্রত্যাশা করছে। এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নেওয়া ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তির মেয়াদ ও পরিধি পরবর্তী সময়ে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। যদিও অর্থমন্ত্রী ইতিপূর্বে আইএমএফের সব শর্ত দেশের জন্য ‘উপযুক্ত নয়’ বলে মন্তব্য করেছিলেন, তবে বর্তমানে ধাপে ধাপে বাস্তবসম্মত সংস্কারের মাধ্যমে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিশ্চিত করতে সরকার আগ্রহী।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ডলারের দাম বাড়ার ফলে আমদানি ব্যয় ও বৈদেশিক দায়-দেনার চাপ আরও বৃদ্ধি পাবে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। আইএমএফ প্রতিনিধি দলের ঢাকা সফর শেষ হওয়ার পর তারা ওয়াশিংটনে মূল্যায়ন প্রতিবেদন জমা দেবে। সব প্রক্রিয়া সফল হলে আগামী বছরের জানুয়ারি মাস থেকে নতুন ঋণ ছাড় শুরু হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: