odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Saturday, 12th September 2026, ১২th September ২০২৬
বন্যপ্রাণীর দেহাংশ বহনের অভিযোগে ২ লাখ ইউরো পর্যন্ত জরিমানা বা কারাদণ্ড হতে পারে

ইতালির বিমানবন্দরে যাত্রীর ব্যাগে মমি করা কুমিরের মাথা

odhikarpatra | প্রকাশিত: ১১ September ২০২৬ ২২:৫৬

odhikarpatra
প্রকাশিত: ১১ September ২০২৬ ২২:৫৬

অধিকার পত্র ডটকম ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইতালির তুরিন শহরের ক্যাসেল বিমানবন্দরে এক যাত্রীর ব্যাগ তল্লাশি করে বিপন্নপ্রায় প্রজাতির একটি কুমিরের মমি করা মাথা উদ্ধার করেছে দেশটির ফাইন্যান্সিয়াল পুলিশ ও শুল্ক কর্তৃপক্ষ।

বন্যপ্রাণীর দেহাংশ বহনের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি না থাকা এবং ওয়াশিংটন কনভেনশন বা সাইটিসের (CITES) বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ওই ইতালীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কাস্টমস সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, ওই ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি থেকে ছুটি কাটিয়ে ইস্তাম্বুল হয়ে তুরিনে পৌঁছান। কুমিরের মাথাটি শুকিয়ে সাধারণ কাগজের মোড়কে রাখা হয়েছিল। এভাবে সেটি বহনের কারণে আগের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা ও কাস্টমস তল্লাশি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি।

পরে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তুরিন বিমানবন্দরে তার ব্যাগে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় ব্যাগের ভেতর থেকে মমি করা কুমিরের মাথাটি উদ্ধার করে কর্তৃপক্ষ। পরে সেটি জব্দ করা হয়।

ইতালীয় অর্থ ও শুল্ক পুলিশ জানিয়েছে, বৈধ লাইসেন্স ছাড়া সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী বা তার দেহাংশ আমদানির অভিযোগে ওই যাত্রীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দেশটির আইনে তাকে ২০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ ইউরো পর্যন্ত জরিমানা অথবা ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

১৯৭৩ সালে স্বাক্ষরিত ওয়াশিংটন কনভেনশন বা সাইটিসের উদ্দেশ্য হলো বিপন্নপ্রায় প্রাণী ও উদ্ভিদের আন্তর্জাতিক অবৈধ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ করা। কুমিরের বিভিন্ন প্রজাতিও এই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে।

দ্য গার্ডিয়ান-এর তথ্য অনুযায়ী, ইতালিতে বিদেশি বন্যপ্রাণী ও পাখির অবৈধ বাণিজ্যের সঙ্গে সংগঠিত অপরাধী চক্রের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কিছু স্যুভেনির দোকানে শুকনো কুমিরের মাথা বিক্রি হতে দেখা যায়। পর্যটকদের কেউ কেউ এগুলো স্মারক বা উপহার হিসেবে কিনলেও আন্তর্জাতিকভাবে এগুলো বহন বা আমদানির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমতি ও বিধিনিষেধ সম্পর্কে অনেকেরই ধারণা থাকে না।

তবে কোনো বন্যপ্রাণীর দেহাংশ আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করে বহনের আগে সংশ্লিষ্ট দেশের আইন এবং সাইটিসের বিধি মেনে প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া জরুরি।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: